K.U,SEM-III(H)-C-7,SEC-D
‘Mandala’ Theory of Inter State Relations
প্রাচীন ভারতের মৌর্যযুগ বিশ্বকে একটি উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ উপহার দিয়েছে “অর্থশাস্ত্র”। এই গ্রন্থটির রচয়িতা মহামতি কৌটিল্য । অর্থশাস্ত্র গ্রন্থটিতে কৌটিল্যের গভীরতম রাজনৈতিক জ্ঞানের পরিচয় পাওয়া যায় । অসাধারণ বুদ্ধিমত্তা, যুদ্ধ-বিগ্রহ সহ প্রতিরোধ কৌশলের দক্ষতাকে প্রতিফলিত করার জন্য তাঁকে ইন্ডিয়ান ম্যাকিয়াভেলি(Indian
Machiavelli) নামে ডাকা হয় ।
মণ্ডল মতবাদ
প্রাচীন ভারতের পররাষ্ট্রনীতি প্রণয়ন ও প্রয়োগের ব্যাপারে কৌটিল্য হলেন সর্ব শ্রেষ্ঠ চিন্তাবিদ। কৌটিল্যের মতে বাহুবল বৃদ্ধিই রাজার পক্ষে যথেষ্ট নয়;রাজা হবেন পররাষ্ট্র নীতি প্রণয়ন ও প্রয়োগের ব্যাপারে দক্ষ। কৌটিল্যের পররাষ্ট্র নীতি সম্যকভাবে জানার জন্য প্রথমে রাজ্মণ্ডল বা মণ্ডল মতবাদ সম্পর্কে জানা প্রয়োজন ।অধ্যাপক ঘোষাল (U.N. Ghosal) তাঁর A History of Indian Political Ideas শীর্ষক গ্রন্থে এ বিষয়ে আলোচনা করেছেন। তাঁর মতানুসারে মণ্ডল মতবাদে বিজিগীষু রাজাকে কেন্দ্র করে মিত্রতা, শত্রুতা ও নিরপেক্ষতার সম্পর্কযুক্ত দ্বাদশ রাজার পারস্পরিক সম্পর্কের পর্যালোচনা পাওয়া যায়। রাজমণ্ডল হল দ্বাদশ রাজার এক গোষ্ঠী বা চক্রাকারে অবস্থান । বিজিগীষু রাজা, তার সম্মুখভাগে পাঁচজন রাজা, তার পশ্চাৎভাগে চারজন রাজা এবং মধ্যম ও উদাসীন—এই বারোজন রাজাকে দ্বাদশ রাজমণ্ডল বা রাজপ্রকৃতি হিসাবে অভিহিত করা হয়। বিজিগীষু রাজা এই দ্বাদশ রাজমণ্ডলের কেন্দ্রে বিরাজমান থাকেন ।
বিজিগীষু রাজাঃ-
যে রাজা অপর সকল রাজ্য জয়ের বাসনাযুক্ত, তাকে বিজিগীষু রাজা বলা হয়। অন্য সকল রাজ্যের উপর একাধিপত্য কায়েম করার ইচ্ছা এই রাজা পোষণ করেন । বিজিগীষুর অবস্থান রাজামণ্ডলের কেন্দ্রস্থলে ।
বিজিগীষু রাজার সম্মুখভাগে কৌটিল্য পাঁচজন রাজার কথা বলেছেন । এই পাঁচজন রাজা হলেনঃ -অরি, মিত্র, অরিমিত্র, মিত্রমিত্র ও অরিমিত্রমিত্র ।
(১) অরি—
বিজিগীষু রাজার রাজ্যের সীমানার যে-কোন ধারে অবস্থিত রাজ্যের রাজাকে বলা হয়েছে 'অরি' | কারণ সীমান্তবর্তী রাজ্যের রাজা বিজিগীষুর স্বাভাবিক শত্রু।
(২) মিত্র—
যে রাজার রাজ্য অরির রাজ্যের সীমান্তে অবস্থিত, সেই রাজা অরির স্বাভাবিক শত্রু, কিন্তু বিজিগীষুর স্বাভাবিক মিত্র । তাই এই রাজাকে “মিত্র' বলা হয়েছে।
(৩)অরিমিত্র-
মিত্র রাজার রাজ্যের সংলগ্ন রাজা হলেন মিত্র রাজার স্বাভাবিক শত্রু। সুতরাং এই রাজা অরির স্বাভাবিক মিত্র এবং বিজিগীষু রাজার ‘অরিমিত্র’ ।
(৪) মিত্রমিত্র—
যে রাজার রাজ্য অরিমিত্র রাজার রাজ্যের সীমান্তে অবস্থিত সে রাজা হলেন মিত্র রাজার স্বাভাবিক বন্ধু ;সুতরাং বিজিগীষু রাজার “মিত্রমিত্র'।
(৫) অরিমিত্রমিত্র —
যে রাজার রাজ্য মিত্রমিত্র রাজার রাজ্যের সীমান্তে অবস্থিত সেই রাজা হলেন অরিমিত্রের স্বাভাবিক বন্ধু; সুতরাং তিনি বিজিগীষু রাজার অরিমিত্রমিত্র ।
কৌটিল্য বিজিগীষু রাজার সম্মুখবর্তী যে পাঁচজন রাজার কথা বলেছেন তার মধ্যে দু’জন রাজা হলেন বিজিগীষুর মিত্র এবং তিনজন রাজা হলেন বিজিগীষুর শত্রু।| কৌটিল্য বিজিগীষু রাজার পশ্চাৎভাগে চারজন রাজার কথা বলেছেন। এই চারজন রাজা হলেন–পার্ষ্ণিগ্রাহ, আক্রন্দ, পার্ষ্ণিগ্রাহসার,ও আক্রন্দসার ।
(ক) পার্ষ্ণিগ্রাহ —যে রাজার রাজ্য বিজিগীষু রাজার রাজ্যের অব্যবহিত পশ্চাৎভাগে অবস্থিত সেই রাজাকে পার্ষ্ণিগ্রাহ বলা হয়।
(খ) আক্রন্দ—যে রাজার রাজ্য পার্ষ্ণিগ্রাহ রাজ্যের অব্যবহিত পিছনে অবস্থিত তাকে ‘আক্রন্দ’ বলা হয়।
(গ) পার্ষ্ণিগ্রাহসার—আক্রন্দ রাজার রাজত্বের ঠিক পিছনে যে রাজার রাজত্ব অবস্থিত,তাকে পার্ষ্ণিগ্রাহসার বলা হয় ।
(ঘ) আক্রন্দসার—যে রাজার রাজ্য পার্ষ্ণিগ্রাহ সারের রাজ্যের ঠিক পশ্চাদবর্তী তাকে‘আক্রন্দসার' বলে।
সুতরাং,কৌটিল্য বিজিগীষু রাজার পশ্চাদবর্তী যে চারজন রাজার কথা বলেছেন তাদের মধ্যে দু'জন হলেন বিজিগীষুর মিত্র এবং দু’জন তার শত্রু| দ্বাদশ রাজমণ্ডলের আলোচনায় উপরিউক্ত ন'জন রাজা ছাড়াও কৌটিল্য আরও দু’জন রাজার কথা বলেছেন । এই দু’জন রাজা হলেন—মধ্যম ও উদাসীন ।
সিদ্ধান্তঃ-
কৌটিল্যের অর্থশাস্ত্রের অন্তর্ভুক্ত, দ্বাদশ রাজমণ্ডলের আলোচনা থেকে কতকগুলি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় স্পষ্টত প্রতিপন্ন হয় । এই বিষয়গুলি উল্লেখ করা আবশ্যক। মণ্ডলতত্ত্ব অনুযায়ী পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে রাজ্যের ভৌগোলিক অবস্থান একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্ধারক হিসাবে বিবেচিত। মণ্ডলতত্ত্ব অনুযায়ী বিভিন্ন রাষ্ট্রের পারস্পরিক সম্পর্কের প্রকৃতি নির্ধারিত হয় নির্দিষ্ট একটি সময়ের পরিপ্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রসমূহের মধ্যে শক্তি-সামর্থ্যের আপেক্ষিক ভারসাম্যের ভিত্তিতে |
--------------------------------------------------------
https://www.youtube.com/watch?v=h7MHSwKhPY8

No comments:
Post a Comment