মহাপুরাণের বৈশিষ্ট্য—
সাধারণভাবে পুরাণের পাঁচটি লক্ষণ স্বীকৃত হয়েছে। এই সম্বন্ধে বায়ুপুরাণ ও বিষ্ণুপুরাণে বলা হয়েছে--
‘সর্গশ্চ প্রতিসর্গশ্চ বংশো মন্বন্তরাণি চ ।
বংশানুচরিতঞ্চৈব পুরাণং পঞ্চলক্ষণম্’।।
সর্গ মানে সৃষ্টি। প্রতিসর্গ—প্রলয়ের পর নতুন সৃষ্টি। বংশ—দেবতা ও ঋষিদের বংশাবলী। মন্বন্তর—এক এক মনুরশাসনকাল। বংশানুচরিত—রাজবংশগুলির ইতিহাস।
উক্ত পাঁচটি লক্ষণ সম্বন্ধে সমস্ত পুরাণ একমত নয়। মৎস্যপুরাণে আরো ব্যাপকভাবে পুরাণের লক্ষণ করা হয়েছে—
‘উৎপত্তিং প্রলয়ঞ্চৈব বংশান্ মন্বন্তরাণি চ ।
বংশানুচরিতঞ্চৈব ভুবনস্য বিস্তরম্ ।।
দানধর্মবিধিঞ্চৈব শ্রাদ্ধকল্পঞ্চ শাশ্বতম্ ।
বর্ণাশ্রমবিভাগঞ্চ তথেষ্টাপূর্তসংজ্ঞিতম্ ।।
দেবতানাং প্রতিষ্ঠাদি যচ্চান্যদ্ বিদ্যতে ভুবি ।
তৎসর্বং বিস্তরেণ ত্বং ধর্মং ব্যাখ্যাতুমর্হসি’।।
এখানে সর্গাদির অতিরিক্ত ভুবনবিস্তার, দানধর্ম, শ্রাদ্ধকল্প, বর্ণাশ্রমবিভাগ, ইষ্টাপূর্ত ও দেবতাপ্রতিষ্ঠা নামে আরো ছয়টিলক্ষণের কথা বলা হয়েছে।
বিষয়বস্তুর বিচারে মহাপুরাণ ও উপপুরাণগুলির মধ্যে কোন পার্থক্য নেই। মূল পুরাণ রচনার পর অন্যান্য অনেকবিষয় ধীরে ধীরে এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। যেমন—জ্যোতিষ, শ্রাদ্ধকল্প, কৃষি, পশুপালন, বাণিজ্যকর্ম, আয়ুর্বেদ, ব্যাকরণ,ছন্দ, ভূগোল, অস্ত্রবিদ্যা, শারীরবিদ্যা প্রভৃতি।
No comments:
Post a Comment