পুরাণগুলির গুরুত্ব—
ঐতিহাসিক মূল্য—
পুরাণগুলির ঐতিহাসিক মূল্য অনেক। পুরাণে প্রাচীন রাজাদের মধ্যে স্বায়ম্ভূব, দক্ষ প্রাচেতস্, বৈবস্বত,মান্ধাতা, সগর, রাম প্রমুখ রাজাদের বিবরণ যেমন পাওয়া যায়, তেমনি বৃহদ্রথবংশ, প্রদ্যোতবংশ,শিশুনাগবংশ, নন্দবংশ, মৌর্যবংশ, শুঙ্গবংশ, কণ্ববংশ, আন্ধ্রভৃত্যবংশ ও গুপ্তবংশের বিবিরণও পাওয়া যায়।এছাড়া উক্ত রাজবংশগুলির সমসাময়িক আভীর, শক, যবন, তুষার, হূণ প্রভৃতি শূদ্র ও ম্লেচ্ছ রাজবংশেরনির্ভরযোগ্য ইতিহাস পাওয়া যায়। তবে একথা ঠিক যে, রাজবংশগুলির ইতিহাস বর্ণনায় কোন কোন ক্ষেত্রেঅতিরঞ্জন, ভ্রমপ্রমাদ এবং কল্পনাবিলাসও আছে ।
পুরাণের ধর্মীয় গুরুত্ব—
হিন্দুধর্মের দুটি প্রধান ধারা—বৈদিকধর্ম ও পৌরাণিক ধর্ম। পুরাণগুলিতে ব্রাহ্ম, পাঞ্চরাত্র, বৈষ্ণব, ভাগবত, শৈব, পাশুপত, গাণপত্য, শাক্ত প্রভৃতি বিভিন্ন ধর্মসম্প্রদায়ের সামাজিক ইতিহাস পাওয়া যায়। এখানে বেদানুসারী সাংখ্য, বেদান্ত প্রভৃতি দার্শনিক মতবাদের পাশাপাশি বেদবিরোধী কিছু মতবাদও স্থান পেয়েছে। এখানে লোকধর্মেরও বিশিষ্ট রূপ দেখা যায়। পৌরাণিকমতে সত্য ও অহিংসাই শ্রেষ্ঠ ধর্ম। সত্য শুধু অধ্যাত্মচেতনা নয়, এটা কায়িক-বাচিক-মানসিক বিশুদ্ধিকরণ। পুরাণমতে অহিংসা, ক্ষমা, ক্ষান্তি, শম, দম, ইন্দ্রিয়নিগ্রহ, দয়া, দান, শৌচ, তপঃ, সত্য, বিদ্যা, ত্যাগ, অক্রোধ, অস্তেয়, ধ্যান, দেবতাপূজা ইত্যাদি মহদ্ধর্ম।
এইভাবে পরিবর্তিত যুগধারায় ধর্মাচার ও সামাজিক কাঠামোতে যে সব বৈশিষ্ট্য যুক্ত হয়েছিল, পুরাণগুলি সেগুলির মধ্যে অপূর্ব সামঞ্জস্য বিধান করেছিল।
No comments:
Post a Comment