SANS-H-CC-T-03
संस्कृत-गल्पसाहित्ये सिंहासनद्वात्रिंशिकाया: स्थानं निरूप्यताम् |
ভূমিকাঃ-
‘সিংহাসন-দ্বাত্রিংশিকা’ সংস্কৃত গল্প সাহিত্যের এক অমুল্য সম্পদ ।এই গ্রন্থের অন্য নাম গুলি হল-‘বিক্রমার্কচরিত’,’বিক্রমচরিত’,এবং ‘দ্বাত্রিংশৎ-পুত্তলিকা’ । গল্পগ্রন্থটির বিশেষ প্রচলন না থাকলেও সংস্কৃত গল্পসাহিত্যে এর অবদান নেহাত নগণ্য নয় ।
রচয়িতা ও রচনাকালঃ-
৩২টি গল্পের সমন্বয়ে রচিত এই গ্রন্থের রচয়িতা হিসাবে আমরা মহাকবি কালিদাস ,বররুচি,সিদ্ধসেন,দিবাকর ও ক্ষেমেন্দ্রের নাম পেয়ে থাকি । গবেষকদের ধারণা, প্রাচীনতম মূল রচনাটি লুপ্ত হয়ে গেছে ।আনুমানিক দ্বাদশ বা ত্রয়োদশ শতাব্দীকে এই গ্রন্থের রচনাকাল হিসাবে ধরা হয় ।
উৎসঃ-
অনেকের ধারণা রাজা বিক্রমাদিত্যের কাহিনী সম্বলিত এই গল্প গ্রন্থের উৎস হল ‘বৃহৎকথা’, কেউ বলেন এটি বৌদ্ধ-উৎসজাত ।
বিষয়বস্তুঃ-
কিংবদন্তী অনুসারে রাজা বিক্রমাদিত্য নারী মূর্তি বিশিষ্ট বত্রিশটি পুত্তলিকাযুক্ত একটি সিংহাসন ইন্দ্রের কাছ থেকে উপহার পান ।কিন্তু বিক্রমাদিত্যের মৃত্যুর পর সেই সিংহাসন ভূগর্ভে প্রোথিত হয় । পরবর্তী কালে ধারাধিপতি ভোজ এটিকে উদ্ধার করে তাতে বসতে গেলে সিংহাসন গাত্রে ক্ষোদিত বত্রিশটি পুত্তলিকাই জীবন্ত হয়ে একে একে বিক্রমাদিত্যের জীবনের একটি করে গল্প বলে এবং ভোজরাজকে বলে তিনি যদি কাহিনীতে বর্ণিত বিক্রমাদিত্য-সম গুণের অধিকারী হন তবেই তিনি এই সিংহাসনে বসতে পারবেন অন্যথায় তাঁর অমঙ্গল হবে । ভোজ রাজ বত্রিশ দিনে বত্রিশটি পুতুলের কাছ থেকে রাজা বিক্রমাদিত্যের গুনরাজির কথা শ্রবণ করে সিংহাসনে উপবেশনের ইচ্ছা পরিত্যাগ করেন ।বত্রিশটি পুতুল কথিত বত্রিশটি গল্পের সংকলন হল ‘সিংহাসন-দ্বাত্রিংশিকা’ ।
মূল্যায়নঃ-
অন্যান্য গল্প গ্রন্থের তুলনায় আলোচ্য গ্রন্থে বর্ণিত উপাখ্যান গুলির সাহিত্যিক উৎকর্ষ খুবই কম।তবে সাহিত্যিক উৎকর্ষ না থাকলেও গ্রন্থটির দ্বারা লোকায়ত সমাজের রসিক পাঠক গণ আকৃষ্ট হয়েছেন ।ভারতের বিভিন্ন ভাষাতে তাই এই গ্রন্থটির অনুবাদ পরিলক্ষিত হয়।নীতিকথার বাহুল্য সত্ত্বেও এর জনপ্রিয়তা হ্রাস পায়নি ।
-------------
No comments:
Post a Comment