Tuesday, December 31, 2019

Hearsay about Bhartrahari



Image result for bhartrihari

কবিভর্তৃহরি কিংবদন্তী



       🔻সংস্কৃত সাহিত্যের একপরম সম্পদ কবি ভর্তৃহরিকবির জীবনের রসায়ন বরই অদ্ভুতভর্তৃহরি কেএনিয়ে সংস্কৃতসাহিত্যে বিভিন্ন জনপ্রিয় কিংবদন্তীর অবতারণা করা হয়েছেসংস্কৃত সাহিত্যের অন্যান্য কবিদের ব্যক্তি জীবন সময়কাল নিয়ে যে সমস্যা দেখা দেয় , ভর্তৃহরির ক্ষেত্রেও ব্যাপারটা অনুরূপ

কিংবদন্তী
     🔻 কিংবদন্তী অনুসারে ভর্তৃহরি উজ্জয়িনীরাজ গন্ধর্বসেনের পুত্রতথ্য অনুসারেগন্ধর্বসেন খ্রীষ্টীয় প্রথম বা দ্বিতীয় শতকে উজ্জয়িনী শাসন করেনগন্ধর্বসেনের দুই পত্নী ছিলপ্রথমা পত্নীর গর্ভজাত পুত্র ভর্তৃহরি এবং দ্বিতীয়া পত্নীর পুত্র হলেন বিক্রমাদিত্য
     🔻ধারানৃপতি ছিলেন বিক্রমাদিত্যের মাতামহগন্ধর্বসেনের মৃত্যুর পর অপুত্রক ধারানৃপতি গন্ধর্বসেনের দুই পুত্রকে দত্তক হিসেবে গ্রহণ করেন এবং লালনপালন করেনগন্ধর্বসেনের তত্ত্বাবধানে রাজকুমারদ্বয়ের বিদ্যাশিক্ষার সাথে সাথে সমরশিক্ষা , রাজনীতি , ধর্মনীতিপ্রভৃতিরও পাঠ চলতে থাকেরাজকুমারদ্বয়ের অভিষেককাল সমাগত হলে ধারানৃপতি পক্ষপাত দেখিয়ে দৌহিত্র বিক্রমাদিত্যকে সিংহাসনে বসাতে চাইলেনজ্যেষ্ঠভ্রাতার প্রতি সম্মান দেখিয়ে বিক্রমাদিত্য উজ্জয়িনীর সিংহাসন প্রত্যাখ্যান করেন  । 

      🔻অগত্যা ভর্তৃহরিই রাজা হন এবং বিক্রমাদিত্য তার প্রধানমন্ত্রিত্ব গ্রহণ করেনএই সময় উজ্জয়িনী ও ধারানগরী একই শাসনের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যায়বিক্রমাদিত্য নিষ্ঠার সাথে প্রধানমন্ত্রিত্বের দায়িত্বভার পালন করতে থাকলে ভর্তৃহরিক্রমশঃ রাজকার্যের প্রতি উদাসীন হয়ে পড়েন এবং রূপবতী পত্নী অনঙ্গসেনার প্রতি অত্যধিক আসক্তির কারণে রাজ্যশাসনে অবহেলাও দেখাতে থাকেনশুধু তাই নয় , তিনি নানাবিধ ব্যসনেও আসক্ত হতে থাকেনবিক্রম জ্যেষ্ঠ্যভ্রাতার পরিণতি সম্পর্কে তাকে সতর্ক করলে ক্রুদ্ধ ভর্তৃহরি  বিক্রমকে প্রধানমন্ত্রিত্ব থেকে অপসারিত করে রাজ্য থেকে নির্বাসিত করেন

     🔻 বিক্রমাদিত্য এই সময় বর্তমান বাংলাদেশের ঢাকা শহরের উপকণ্ঠে এক গ্রামে এসে থাকেনতার নামানুসারে , পরে গ্রামটিবিক্রমপুরনামে অভিহিত হয়| উজ্জয়িনী রাজ্যে তখন ঘোরতর অব্যবস্থা অশান্তি চলতে থাকেএমন সময় এক ব্রাহ্মণ রাজাকে একটিফলউপহার দিয়ে বলেন যে , ফলটি বহু উদ্দেশ্যসাধকএর দ্বারা তার অশান্তি দূর হবে এবং রাজ্যের সমৃদ্ধিও বৃদ্ধি পাবে । 

     🔻রাজা এই আশ্চর্যফলটি তার প্রিয়তমা রাজমহিষীকে উপহার দেনরাজমহিষী অনঙ্গসেনার এক গুপ্ত প্রেমিক ছিলেনরাজমহিষী ফলটি তার প্রেমিককে উপহার দেনপ্রেমিক পুরুষ আবার ফলটি তার অন্য প্রেমিকাকে দান করেনসেই প্রেমিকা আবার মনে মনে ভর্তৃহরিকে কামনা করতেনমহামূল্য ফলটি তিনি আবার রাজার মঙ্গল কামনায় তাকে উপহার দেনরাজা ভর্তৃহরি ফলটি পুনরায় তার কাছে ফেরৎ আসার কারণ অনুসন্ধান করে সমস্ত বৃত্তান্ত অবগত হলেন এবং রাজমহিষীর বিশ্বাসঘাতকতায় অত্যন্ত মর্মাহত হলেনজীবনের প্রতি রাজার মোহ ধীরে ধীরে কাটতে থাকেভর্তৃহরি তার নীতিশতকের দ্বিতীয় শ্লোকে এই ঘটনারই বর্ণনা করেছেন
যাং চিন্তায়ামি সততং ময়ি সা বিরক্তা
সাপ্যন্যমিচ্ছতি জনং জনোহন্যসক্তঃ 
অস্মৎকৃতে পরিতুষ্যতি কাচিদন্যা
             ধিক্ তাং তং মদনং ইমাং মাং । ।
                                                       (নীতিশতক নং শ্লোক)
 শ্লোকের অর্থঃ-
           আমি আমার যে প্রেমাস্পদাকে সর্বদা চিন্তা করি , আমার সেই প্রেমাস্পদা আমার প্রতি অনুরাগ পাোষণ করেন না , তিনি আবার অন্য পুরুষকে কামনা করেনআমার প্রেমাস্পদার প্রার্থিত পুরুষ অন্য এক রমণীতে আসক্ত , আমার চিন্তায় আবার অন্য এক রমণী পরিতৃপ্তি লাভ করেনএরকম অবস্থায় আমার প্রেমাস্পদাকে , প্রেমাস্পদার প্রার্থিত পুরুষকে , কামদেবকে , আমার প্রতি অনুরক্তা সেই নারীকে এবং আমার নিজেকে ধিক্কার জানাই

    🔻রাজার কাছে নিজের গোপন প্রেম ধরা পড়ে যাওয়ায় মহিষী অনঙ্গসেনা লজ্জায় আত্মহত্যা করেনএরপর ভর্তৃহরি পিঙ্গলা নামক এক রাজকন্যার পাণিগ্রহণ করেনরাজা ভর্তৃহরি একবার শিকারে গিয়ে এক দৃশ্য দেখেনএক শিকারী একটি হরিণকে হত্যা করেহরিণের শোকে সঙ্গিনী হরিণীটি সেখানেই প্রাণত্যাগ করেএদিকে শিকারী নিজেও সর্পাঘাতে নিহত হয়আশ্চর্যজনকভাবে শিকারীর পত্নীও সেখানে প্রাণত্যাগ করেনভর্তৃহরি অদ্ভুত এই দৃশ্য পিঙ্গলাকে বর্ণনা করেনপিঙ্গলা সব শুনে রাজাকে জানালেন যে , সতী স্ত্রী এভাবেই পতির শাোকে প্রাণ ত্যাগ করেন

     🔻 রাজা ভর্তৃহরি পিঙ্গলার কথা শুনে একদিন শিকারে গিয়ে তার সমস্ত বসন পশুর রক্তে রঞ্জিত করে অনুচরদের হাতে পিঙ্গলার নিকট পাঠিয়ে দিলেন এবং জানালেন যে বাঘের হাতে রাজার মৃত্যু হয়েছেঅনুচরের মুখে সমস্ত বৃত্তান্ত শুনে পিঙ্গলা সেই মুহূর্তেই মৃত্যু বরণ করেনরাজপ্রাসাদে প্রত্যাবর্তন করে রাজা সমস্ত বৃত্তান্ত অবগত হয়ে নিজের কপটতার গ্লানিতে দগ্ধ হতে থাকেনসংসার জীবনের অসারতা উপলদ্ধি করে গোরক্ষনাথ নামক এক মহাযোগীর নিকট তিনি সন্ন্যাস ধর্মে দীক্ষা গ্রহণ করেন
------------

  

No comments:

Post a Comment