Monday, December 30, 2019

Hearsay about Bharabi




Image result for কিরাতার্জুনীয়ম
মহাকবি ভারবি কিংবদন্তী


অবন্তি সুন্দরী কথা ' গ্রন্থানুসারে  , উত্তর - পশ্চিম ভারতের অধুনা গুজরাটের অন্তর্গত আনন্দপুর নামক স্থানে  কৌশিক গোত্রীয় এক গ্রাহ্মণ পরিবার বাস করতেনপরে তাঁরা দাক্ষিণাত্যে নাসিকের অন্তর্গত অচলপুরে বসবাস করতেনসে বংশের নারায়ণস্বামীর এক পুত্রের নাম ছিল দামোদর দামোদর  মহাকবি ভারবি  
স্থানীয় রাজকুমার বিষ্ণুবর্ধনের সঙ্গে ভারবির বন্ধুত্ব হয় এবং  রাজকুমার বিষ্ণুবর্ধনের সঙ্গে ভারবি একবার মৃগয়ায় গিয়ে ক্ষুধার তাড়নায় মাংস ভক্ষণ করে জীবন রক্ষা করতে বাধ্য হন কারণে ভারবি মাতাপিতার কাছে ফিরে যেতে অত্যন্ত লজ্জা বোধ  করেন , এবং পাপের প্রায়শ্চিত্তের জন্য স্বেচ্ছায় বনবাস জীবন বেছে নেন
            
           বনবাসকালে দুর্বিনীত নামে এক রাজকুমারের সঙ্গে ভারবির সাক্ষাৎকার ঘটেরাজকুমার দুর্বিনীতও পিতার অসন্তোষের কারণে বনবাসে এসেছিলেনরাজপুত্র দুর্বিনীত ভারবির কবিত্বের পরিচয় পেয়ে মুগ্ধ হন এবং কবিকে নিজ শিবিরে নিয়ে আসেনরাজকুমার দুর্বিনীতের শিবিরে বাস কালে কবি কাঞ্চীর পল্লবরাজ সিংহবিষ্ণুর স্তুতি করে একটি শ্লোক রচনা করে পল্লবরাজের কাছে প্রেরণ করলে , পল্লবরাজ সিংহবিষ্ণু ভারবির কবিত্বে প্রীত হয়ে কবিকে তাঁর রাজসভায় সাদর আমন্ত্রণ জানান এবং স্বীয় পুত্র মহেন্দ্র বিক্রমের সঙ্গে তিনি কবিকে অভিন্ন করে দেখেন উৎস থেকে তা জানা যায় যে , কবি ভারবির মনোরথ নামে এক পুত্র ছিল , মনোরর চতুর্থ পুত্রের নাম ছিল বীরদত্তবীরদত্তের সঙ্গে গৌরীর বিবাহ হয় , এবং যথাকালে তাদের পুত্র দণ্ডী জন্মগ্রহণ করে
     

 মহাকবি ভারবির কিরাতার্জুনীয়ম্  রচনার প্রেক্ষাপট বিষয়ে কিংবদন্তী  


             মহাকবি ভারবি কর্তৃক রচিত কিরাতার্জুনীয়ম্ রচনার আড়ালে  একাধিক গল্পের প্রচলন থাকলেও আমরা জনপ্রিয় একটি গল্প তুলে ধরছি-
            
            ভারবির পিতা ছিলেন শ্রীধর এবং সুশীলা তার মাতাভারবি ভৃগুকচ্ছের কোন এক চন্দ্রকীর্তির  কন্যা রসিকার পাণিগ্রহণ করেন এবং অভিনব যৌবনেই ভারবি  খ্যাতির শীর্ষে অবস্থান করেনকিন্তু  তার পিতা প্রকাশ্যেই ভারবির খ্যাতির নিন্দাবাদ করতে থাকেনপিতার বিরূপ আচরণে ক্ষুব্ধ অসহিষ্ণু হয়ে পিতাকে হত্যা করবার উদ্দেশ্য একদিন রাতে পিতার শয়নকক্ষে প্রবেশ করে পিতা - মাতার কথাবার্তা থেকে যখন ভারবি জানতে পারলেন যে , অপ্রত্যাশিত যশের আতিশয্য পুত্রের মনে অহংকারের জন্ম দিতে পারে , সে আশঙ্কা থেকেই পিতা পুত্রের নিন্দা করেন , তখন পিতৃহত্যার পাপ চিন্তায় অত্যন্ত অনুতপ্ত অনুশোচনাগ্রস্ত হয়ে , পিতারই পরামর্শে সে পাপের প্রায়শ্চিত্তের জন্য ' মাস সস্ত্রীক শ্বশুরালয়ে স্বেচ্ছাবাস স্বীকার করেনভারবির মুখে বৃত্তান্ত শুনে শ্বশুরালয়ের লোকেরাও তাদের দু'জনকে গৃহে রেখে অন্যত্র বাসের জন্য চলে গেলেন
           দারিদ্র্যের তাড়নায় নিতান্ত অসহায় হয়ে একদা ভারবি একটি বৃক্ষপত্রে , শ্লোকার্ধ রচনা করে স্ত্রীর হাতে দিয়ে তা বিক্রী করতে পাঠিয়ে দিলে , বর্ধমান নামে কোন এক বণিকের পত্নী তা ' কিনে নিয়ে শয়নকক্ষের পালঙ্কে স্বর্ণাক্ষরে তা খোদাই করে রাখলেনশ্লোকার্ধে লেখা ছিল — “ সহসা বিদধীত ক্রিয়ামাবিবেক  পরমাপদাং পদম্ " ( / ৩০ ) । অর্থাৎ সহসা কোন কাজ করা উচিত নয় , কেননা অবিমৃশ্যকারী প্রবল বিপদগ্রস্ত  হয়

          দীর্ঘ পঞ্চদশ বর্ষ পরে একদিন বণিক বর্ধমান  ফিরে এলেন  স্বগৃহে , এবং হঠাৎ দেখতে পেলেন তাঁর স্ত্রী  সুদর্শন এক তরুণের সঙ্গে একই শয্যায় শায়িত রয়েছেন দৃশ্য দেখে ক্রোধে অগ্নিশর্মা হয়ে নিজের অবিশ্বস্ত পত্নী এবং তরুণ উভয়কে হত্যা করবার উদ্দেশ্যে তরবারি উত্তোলন করলে , আকস্মিকভাবে তার দৃষ্টি পড়ল পালঙ্কে খোদিত সেই শ্লোকার্ধের উপরতৎক্ষণাৎ বণিক সংযত হয়ে সে পাপকর্ম থেকে নিবৃত্ত হলেনঅন্তঃপর বণিক বর্ধমান স্ত্রীর মুখে জানতে পারলেন যে তার স্ত্রীর সঙ্গে শায়িত তরুণটি তাঁরই পুত্র যার জন্ম হয়েছিল বণিক বাণিজ্যের জন্য দূর দেশে গমন করার কয়েকদিন পরেবণিক অত্যন্ত প্রীত হয়ে ভারবিকে প্রভূত অর্থ দান করেন অত্যধিক কৃতজ্ঞতাবশতউল্লেখ করা যেতে পারে , ভারবি শ্বশুরালয়ে থাকাকালীন প্রত্যহ গাোচারণের কর্মে যখন নিযুক্ত থাকতেন , তখনই কাজের ফাকে অবসর সময়ে বৃক্ষপত্রে এক একটি করে শ্লোক লিপিবদ্ধ করে সমগ্র “কিরাতার্জুনীয়ম্মহাকাব্যটি রচনা করেছিলেন
---------




গল্পটির উৎসঃ- পণ্ডিত গৌরীনাথ পাঠক কর্তৃক সম্পাদিত ''কিরাতার্জুনীয়ম্মহাকাব্যের সংস্কৃতে রচিত ভূমিকা




https://ssl.gstatic.com/ui/v1/icons/mail/images/cleardot.gif


No comments:

Post a Comment