আচার্য দণ্ডী ও কিংবদন্তী
🔻 সংস্কৃত গদ্যসাহিত্যের উল্লেখযোগ্য কবি আচার্য দণ্ডী । তিন তাঁর জীবনচরিত সম্বন্ধে মৌন ,আমরাও অন্ধকারে।আর এই মৌনতা থেকে জন্ম কিংবদন্তীর। আজ আমরা তাঁর সম্বন্ধে প্রচলিত একটি কিংবদন্তী নিয়ে উপস্থিত হয়েছি।
🔻‘কবিচরিত’ গ্রন্থে উল্লেখ আছে যে , এক সময় দেবী সরস্বতী কন্দুক ক্রীড়ারতা সুন্দরী রমণীরূপে দণ্ডী ভবভুতি, ও কালিদাসের সামনে উপস্থিত হন। তাঁকে দেখামাত্র দণ্ডী একটি অসামান্য শ্লোক রচনা করেন। শ্লোকটি হল-
"একো২পি ত্রয় ইব ভাতি কন্দুকো২য়ং
কান্তায়াঃ করতলরাগরক্তরক্তঃ।
ভূমৌতচ্চরণনখাংশুগৌরগৌরঃ
স্বস্থঃ সন্নয়নমরীচিনালঃনীলঃ"।।
🔻দণ্ডী সম্পর্কে আরও একটি কিংবদন্তী আছে যে, দণ্ডী একজন শাস্ত্রজ্ঞ সন্ন্যাসী ছিলেন এবং তিনি বর্ষাকাল ছাড়া সবসময় দেশে দেশে পরিভ্রমণ করতেন । এই নিয়মেই ঘুরতে ঘুরতে তিনি কোন এক বর্ষার সময় এক রাজার বাড়ীতে আশ্রয় নেন । রাজা তাঁর শাস্ত্রজ্ঞানের পরিচয় পেয়ে সন্তুষ্ট হয়ে তাঁর যুবতী কন্যাদের শিক্ষা দানের কাজে দণ্ডীকে নিযুক্ত করেন। একদিন কন্যারা রাজাকে বলেন যে , দণ্ডী সন্যাসী হলেও রস জ্ঞান শূন্য নন। একথা শুনে রাজা দণ্ডীর সাধুতা বিষয়ে সন্দিগ্ধ হন ।দণ্ডীও ক্রমে রাজার মনোভাব বুঝতে পারেন।তখন দণ্ডী একদিন রাজাকে দারিদ্র্য সম্পর্কে কিছু বর্ণনা করার জন্য অনুরোধ করলে রাজা শ্লোকের মাধ্যমে বলেন –
"মদগেহে মুষলীব মূষিকবধুমূর্ষীব মার্জারিকা
মার্জারীব শুনী শুনীব গৃহিনী বাচ্যাঃ কিমন্যে জনাঃ ।
মূর্চ্ছাপন্নশিশূনসূন্ বিজহতঃ সম্প্রেক্ষ্য ঝিল্লীরবৈঃ
লূতাতন্তুবিতান সংবৃত মুখী চুল্লী চিরং রোদিতি" ।।
🔻এই শ্লোকটি শোনার পর দণ্ডী রাজাকে বলেন যে , আজীবন রাজঐশ্বর্য ভোগ করে লালিত হয়ে যদি হদয়ের অনুভব দিয়ে আপনার মত ব্যক্তির পক্ষে দারিদ্র্যের এরূপ জীবন্ত চিত্র অংকন করা সম্ভব হয় , তাহলে নৈষ্ঠিক সন্ন্যাসীর রসজ্ঞান থাকা অসম্ভব বা অসঙ্গত নয়।এই কোথা বলেই দণ্ডী রাজার সমস্ত অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করে সেই স্থান ত্যাগ করেন।
---------
No comments:
Post a Comment