মহাভারতের আদি পর্ব অনুসারে দেবতা-দানবদের মনুষ্য জন্মগ্রহণ
বৈশম্পায়ন জনমেজয় এর উদ্দেশ্যে বললেন - দেবতা ও দানব কোন কোন মনুষ্য রূপে পৃথিবীতে জন্মগ্রহণ করেছিলেন তার বর্ণনা দিচ্ছি –
1.দেবাদিদেব সনাতনপুরুষ ভগবান নারায়ণের অংশে বাসুদেবশ্রীকৃষ্ণ জন্মগ্রহণ করেন ।
2. মহাবলী বলরাম শেষনাগের অংশদ্ভূত ।
3.দানবরাজ বিপ্রচিত্তি জরাসন্ধ এবং হিরণ্যকশিপু শিশুপাল রূপে জন্মেছিলেন ।
4.সংহ্লাদ শল্যরূপে এবং অনুহ্লাদ ধৃষ্টকেতু হয়ে জন্মেছিলেন ।
5. বাষ্কল ভগদত্ত রূপে এবং শিবি দৈত্য দ্রুমরাজ হয়ে জন্মেছিলেন ।
6.কালনেমি দৈত্যই কংস রূপে জন্মগ্রহণ করেছিলেন ।
7.দ্রোণাচার্যের জন্ম হয় ভরদ্বাজ মুনির ঔরসে বৃহস্পতির অংশ থেকে, ইনি ছিলেন শ্রেষ্ঠ ধনুর্ধর, উত্তমশাস্ত্রবেত্তা এবং অত্যন্ত তেজস্বী । তাঁর ঔরসে মহাদেব, যম , কাল এবং ক্রোধের সম্মিলিত অংশ থেকে মহাবলী অশ্বত্থামার জন্ম হয়েছিল ।
8.বশিষ্ঠ ঋষির শাপ এবং ইন্দ্রের নির্দেশে অষ্টবসু রাজর্ষি শান্তনুর ঔরসে গঙ্গার গর্ভে জন্ম নেন । অষ্টবসুর অন্যতম ভীষ্ম ছিলেন, বেদবিদ জ্ঞানী , শ্রেষ্ঠ বক্তা ও কৌরবদের রক্ষক । তিনি ভগবান পরশুরামের সঙ্গে যুদ্ধ করেছিলেন ।
9.কৃপাচার্য রূপে অবতরণ করেছিলেন রুদ্রের এক গণ ।
10.শকুনির জন্ম দ্বাপরযুগের অংশে ।
11.বীরবর সত্যবাদী সাত্যকি , রাজর্ষি দ্রুপদ , কৃতবর্মা এবং রাজা বিরাট মরুগণের অংশে জন্ম নিয়েছিলেন ।
12.অরিষ্টের পুত্র হংস নামক গন্ধর্বরাজ ধৃতরাষ্ট্র রূপে জন্ম নিয়েছিলেন এবং তার ছোট ভাই পাণ্ডু রূপে ।
13.লক্ষ্মী রাজা ভীষ্মকের কন্যা রুক্মিণী রূপে জন্মগ্রহণ করেন ।
14.দ্রৌপদী দ্রুপদের যজ্ঞকুণ্ড থেকে জন্মগ্রহণ করেন ।
15.সিদ্ধি ও ধৃতি কুন্তী ও মাদ্রী রূপে জন্মগ্রহণ করেন । পৃথাই হল কুন্তী ।
16.রাজা সুবলের কন্যা মতি গান্ধারী রূপে জন্মগ্রহণ করেন ।
17.সূর্যের অংশ ধর্মই বিদুর নামে প্রসিদ্ধ ।
18.কুরুকুল কলঙ্ক দুর্যোধন দুরাত্মা কলিযুগের অংশ থেকেই জন্ম নেন ।
19.পুলস্ত্যবংশের রাক্ষসেরা দুর্যোধনের শত ভ্রাতা রূপে জন্ম নিয়েছিলেন ।
20.ধৃতরাষ্ট্রের আর এক পুত্র যুযুৎসু , বৈশ্যার গর্ভে জন্মগ্রহণ করেন , তিনি অন্য ভাইদের মতো ছিলেন না ।
21.যুধিষ্ঠির ধর্ম , ভীমসেন বায়ু , অর্জুন ইন্দ্র এবং নকুল - সহদেব অশ্বিনীকুমারদ্বয়ের অংশে জন্মগ্রহণ করেন ।
22.সূর্যের অংশে উৎপন্ন হয়েছিলেন মহাবীর কর্ণ ।
23. চন্দ্রের পুত্র বর্চা অভিমন্যু রূপে জন্ম নেন | বর্চার জন্মের সময় চন্দ্র বলেছিলেন , ‘আমি আমার প্রাণপ্রিয় পুত্রকে পাঠাতে চাই না , যদিও জানি এই কাজে দ্বিধা করা উচিত নয় । অসুরদের বধ করা তো আমাদেরই কাজ । তাই বর্চা মানুষ রূপে যাবে , কিন্তু বেশি দিন থাকবে না । ইন্দ্রের অংশে নরবতার অর্জুন জন্মাবেন , যার সঙ্গে নারায়ণাবতার শ্রীকৃষ্ণ বন্ধুত্ব করবেন । আমার পুত্র অর্জুনের পুত্র রূপে জন্ম নেবে । নর - নারায়ণের অনুপস্থিতিতে আমার পুত্র চক্রব্যুহ ভেদ করবে এবং ভয়ঙ্কর যুদ্ধ করে মহারথীদের ধরাশায়ী করবে । সারাদিন যুদ্ধের পর সন্ধ্যার সময় সে আমার কাছে ফিরে আসবে । এরই পত্নীর গর্ভে যে পুত্র জন্মাবে , সে হবে কুরুকুলের বংশধর ।
24.বিশ্বদেবগণ দ্রৌপদীর পাঁচ পুত্র প্রতিবিন্ধ্য , সুতসোম , শ্রুতকীর্তি , শতানীকে এবং শ্রুতসেন রূপে জন্ম গ্রহণ করেন |
25. অগ্নির অংশে ধৃষ্টদ্যুম্না এবং রাক্ষসের অংশে শিখণ্ডীর জন্ম ।
26.সনৎকুমার প্রদ্যুম্ন হয়ে জন্মেছিলেন |
27.ইন্দ্রের নির্দেশে অপ্সরাদের অংশে ১৬ হাজার নারীর জন্ম হয় ।
এইভাবে দেবতা , অসুর , গন্ধর্ব অপ্সরা এবং রাক্ষসগণ নিজ নিজ অংশে মনুষ্য রূপে জন্ম গ্রহণ করেন |
No comments:
Post a Comment