Tuesday, September 29, 2020

Birth history of Kripacharya,Dronacharya and Aswatthama

 



কৃপাচার্য ,দ্রোণাচার্য অশ্বত্থামার জন্ম কাহিনী

 

কৃপাচার্যের জন্ম কাহিনী:-

                    বৈশম্পায়ন মুখে কথিত বৃত্তান্ত অনুসারে , মহর্ষি গৌতমের পুত্র ছিলেন শরদ্বানতিনি বাণের দ্বারা উৎপন্ন হয়েছিলেনধনুর্বেদে তিনি ছিলেন মনোযোগীতিনি তপস্যা দ্বারা সমস্ত অস্ত্র - শস্ত্র লাভ করেছিলেনশরদ্বানের ভীষণ তপস্যা এবং ধনুর্বেদে নৈপুণ্য দেখে ইন্দ্র অত্যন্ত ভীত হয়েছিলেনতিনি শরদ্বানের তপস্যায় ব্যাঘাত করার জন্য জানপদী নামে এক দেবকন্যা প্রেরণ করেনতিনি শরদ্বানের আশ্রমে এসে নানাভাবে তাকে প্রলোভিত করতে থাকেনসেই সুন্দরী যুবতীকে এক বস্ত্রে দেখে তিনি  রোমাঞ্চিত  হন  , হাত থেকে ধনুর্বাণ পড়ে যায়

           শরদ্বান অত্যন্ত বিবেচক এবং তপস্যার পক্ষপাতী ছিলেনতিনি ধৈর্য সহকারে নিজেকে দমন করলেনকিন্তু তাঁর মনে বিকার আসায়  অজান্তেই তাঁর শুক্রপাত হয়তিনি ধনুর্বাণ , মৃগচর্ম , আশ্রম সেই কন্যাকে পরিত্যাগ করে সত্বর সেখান থেকে রওনা হলেনতার বীর্য সরকণ্ডোর ওপরে পড়ে দ্বিধাবিভক্ত হয়ে একটি কন্যা একটি পুত্রের জন্ম হল

                   দৈবক্রমে রাজর্ষি শান্তনু সপারিষদ শিকার করতে সেখানে এলেনকোনো এক পারিষদ সেইদিকে তাকিয়ে শিশুদের দেখল এবং ভাবল যে , এই শিশুদ্বয়  হয়তো কোনো ধনুর্বেদে পারদর্শী ব্রাহ্মণপুত্ররাজা শান্তনু সংবাদ পেয়ে সেই শিশুদের সঙ্গে নিয়ে এসে  পালন - পোষণ করে যথোচিত সংস্কার করলেন এবং দুজনের নাম রাখলেন কৃপ এবং কৃপী

             শরদ্বান তপপ্রভাবে সব জানতে পেরে রাজর্ষি শান্তনুর কাছে এসে তাঁদের নাম - গোত্র জানালেন এবং তাদের চার প্রকার ধনুর্বেদ বিবিধ শাস্ত্রাদির শিক্ষা দিলেনঅল্প দিনেই বালক কৃপ সকল বিষয়ে পারঙ্গম হয়ে উঠলেন এবং কৌরব , পাণ্ডব , যদুবংশীয় অন্যান্য রাজকুমারদের ধনুর্বেদ অভ্যাস করাতে লাগলেন

দ্রোণাচার্য অশ্বত্থামার  জন্ম কাহিনী:-

                   প্রথম যুগে গঙ্গাদ্বার নামক স্থানে মহর্ষি ভরদ্বাজ বাস করতেনতিনি অত্যন্ত নিয়মনিষ্ঠ এবং যশস্বী ছিলেনএকবার যজ্ঞের সময় তিনি মহর্ষিদের নিয়ে গঙ্গাস্নানে গেলেনসেখানে ঘৃতাচী অপ্সরাকে স্নান করতে দেখে তাঁর মনে কামনা জাগরিত হয় এবং তাঁর বীর্যস্খলন হয়তিনি সেই বীর্য দ্রোণ নামক যজ্ঞপাত্রে রেখে দেন , তাতেই দ্রোণ জন্ম নেনদ্রোণ সমগ্র বেদ বেদাঙ্গ স্বাধ্যায় করেছিলেনমহর্ষি ভরদ্বাজ আগেই অগ্নিরেশ্যকে আগ্নেয়াস্ত্র শিক্ষা প্রদান করেছিলেনগুরু ভরদ্বাজের নির্দেশে তিনি দ্রোণকে আগ্নেয়াস্ত্র শিক্ষা দেনজামদায় পৃষৎ নামের এক রাজা ছিলেন ভরদ্বাজ মুনির মিত্রদ্রোণের জন্মের সময়ই তার এক পুত্র হয় তার নাম দ্রুপদতিনিও ভরদ্বাজ আশ্রমে এসে দ্রোণের সঙ্গে শিক্ষালাত করেনদ্রোণের সঙ্গে তার অত্যন্ত বন্ধুত্ব হয়পৃষতের মৃত্যুর পর দ্রুপদ উত্তর - পাঞ্চাল দেশের রাজা হলেন

                 ভরদ্বাজ ঋষি ব্রহ্মলীন হলে দ্রোণ আশ্রমে থেকে তপস্যায়  রত হনতিনি শরদ্বানের কন্যা কৃপীকে বিবাহ করেনকৃপী অত্যন্ত ধর্মশীলা এবং জিতেন্দ্রিয়া ছিলেনঅশ্বত্থামা কৃপীর গর্ভে জন্মগ্রহণ করেনতিনি জন্মেই উচ্চৈঃশ্রবা অশ্বের ন্যায়স্থামঅর্থাৎ শব্দ করেছিলেন , তাই তার নাম রাখা হয়অশ্বত্থামাঅশ্বত্থামার জন্মে দ্রোণ অত্যন্ত আনন্দিত হন এবং স্বয়ং অশ্বত্থামাকে ধনুর্বেদ শিক্ষা দিতে থাকেন

              একসময় দ্রোণাচার্য  জানতে পারেন যে,জামদগ্নি  নন্দন ভগবান পরশুরাম তার সর্বস্ব ব্রাহ্মণদের দান করছেন | দ্রোণাচার্য  তার কাছ থেকে  ধনুর্বেদ সমন্ধীয় জ্ঞান এবং দিব্য অস্ত্রাদি সম্পর্কে জানার জন্য রওনা দিলেন |শিষ্যাদিসহ মহেন্দ্র পর্বতে পৌঁছে তিনি পরশুরামকে প্রণাম করে বললেন— “ আমি মহর্ষি অঙ্গিরার গোত্রে ভরদ্বাজ ঋষির দ্বারা অযোনি সম্ভূত পুত্রআমি আপনার কাছে কিছু পাবার আশায় এসেছি

                পরশুরাম বললেন— “ আমার কাছে যা ধন - রত্ন ছিল , তা আমি ব্রাহ্মণদের দিয়ে দিয়েছিসমস্ত পৃথিবী আমি ঋষি কাশ্যপকে প্রদান করেছিআমার কাছে এখন এই শরীর অস্ত্র ব্যতীত আর কিছুই নেইএর মধ্যে যেটি তোমার প্রয়োজন চেয়ে নাওদ্রোণাচার্যবললেন— “ ভৃগুনন্দন ! আপনি আমাকে সমস্ত অস্ত্র , তার প্রয়োগ , রহস্য এবং উপসংহার বিধি - সহ প্রদান করুনপরশুরাম তথাস্তুবলে তাকে সমস্ত শিক্ষা - সহ অস্ত্র দিলেনঅস্ত্র - শস্ত্র লাভ করে দ্রোণ অত্যন্ত প্রসন্ন হলেনতিনি তারপর তার প্রিয় মিত্র দ্রুপদের কাছে ফিরে এলেনদ্রোণাচার্য দ্রুপদের কাছে গিয়ে বললেন— “ রাজন্ ! আমাকে চিনতে পারছেন ? আমি আপনার প্রিয় সখা দ্রোণপাঞ্চালরাজ দ্রুপদ দ্রোণের কথায় অসন্তুষ্ট হলেনচক্ষু লাল করে ভ্রু কুঞ্চিত করে বললেন— “ ব্রাহ্মণ ! তোমার কোনো বুদ্ধি নেই ! আমাকে বন্ধু বলতে তোমার একটুও লজ্জা হল না ? গরিবের সঙ্গে রাজার কীসের বন্ধুত্ব ? যদি কখনো হয়ে থাকে , তা এখন অতীত স্মৃতি মাত্র

               দ্রুপদের কথা শুনে দ্রোণ ক্রোধে কম্পিত হলেনতিনি মনে মনে এক দৃঢ় সংকল্প করে কুরুবংশের রাজধানী হস্তিনাপুরে এলেনসেখানে তিনি কিছুদিন কৃপাচার্যের গৃহে আত্মগোপন করে রইলেন

দ্রোণাচার্যের নৈপুণ্য:-

                     একদিন যুধিষ্ঠির সকল রাজপুত্র মিলে নগরের বাইরে ময়দানে বল খেলতে গেলেনঅকস্মাৎ বলটি একটি কুয়ার মধ্যে পড়ে গেলরাজকুমারেরা বহু চেষ্টা করেও বলটি তুলতে পারলেন নাতাঁরা লজ্জায় একে অপরের দিকে তাকাতে লাগলেনতখন তাঁরা এক ব্রাহ্মণকে দেখতে পেলেন , যিনি নিত্যকর্ম সবে সমাপ্ত করেছেনঈষৎ কৃশকায় , শ্যামলবর্ণের সেই ব্রাহ্মণকে রাজকুমারেরা ঘিরে ধরলেনরাজকুমারদের বিষণ্ণ মুখ দেখে ব্রাহ্মণ ঈষৎ হাস্যে বললেন— “ তোমাদের ক্ষত্রিয় বল এবং অস্ত্র কৌশলকে ধিক ! তোমরা সকলে মিলেও কুয়া থেকে একটি বল তুলতে পারলে না ! দেখো , আমি তোমাদের বল এবং এই আংটিটিকে এখনই  থেকে তুলে আনবতোমরা আমার খাবার ব্যবস্থা করো । ” এই বলে তিনি তার আংটিকেও কুয়াতে ফেলে দিলেন

            যুধিষ্ঠির বললেনভগবান ! কৃপাচার্যের অনুমতি হলে আপনি সর্বদাই এখানে থেকে পান - ভোজনাদি করতে পারবেনতখন দ্রোণাচার্য বললেন— “ দেখো , এগুলি কয়েকটি শিকএগুলি আমি মন্ত্রপূত করে রেখেছিআমি একটি শিক দিয়ে তোমাদের বলে ছিদ্র করছি , পরে অন্য শিকগুলি একের পর এক সংলগ্ন করে বলটি তুলে আনছিদ্রোণ এই কথা বলে বল তুলে আনলেনরাজকুমারেরা দেখে আশ্চর্য হয়ে গেলেনতাঁরা বললেন — ‘ ভগবান ! আপনার আংটি বার করুন ! দ্রোণাচার্য বাণ প্রয়োগ করে বাণ - সহ আংটি বার করে আনলেনরাজকুমারেরা ভীষণ আশ্চর্য হয়ে বলতে লাগলেনএমন আশ্চর্য অস্ত্রবিদ্যা আমরা আগে কখনো দেখিনিআপনি কৃপা করে আপনার পরিচয় দিন , আর বলুন আপনার জন্য আমরা কী করতে পারিদ্রোণাচার্য বললেন— “ তোমরা এইসব কথা ভীষ্মকে বোলো , আশা  করি তিনি আমার স্বরূপ চিনতে পারবেনরাজকুমারেরা নগরে ফিরে এসে পিতামহ ভীষ্মকে সমস্ত ঘটনা জানালেনতিনি সব শুনেই বুঝলেন যে , ইনি আর কেউ নন , মহারথী দ্রোণাচার্যভীষ্ম তখন ঠিক করলেন এখন থেকে দ্রোণাচার্যই রাজকুমারদের অস্ত্র শিক্ষা দেবেনতিনি সত্বর গিয়ে দ্রোণাচার্যকে নিয়ে এলেন এবং তাঁর খুব আদর - আপ্যায়ন করলেন

দ্রোণাচার্যের  হস্তিনাপুরে আসার কারণ:-

                    ভীষ্ম দ্রোণাচার্যকে  হস্তিনাপুরে আসার কারণ জিজ্ঞাসা করলে দ্রোণাচার্য জানালেন— “ আমি যখন ব্রহ্মচর্য পালনের সময় শিক্ষালাভ করছিলাম , সেইসময় পাঞ্চাল রাজপুত্র দ্রুপদও আমার সঙ্গে ধনুর্বিদ্যা শিখছিলেনআমাদের দুজনের মধ্যে খুব বন্ধুত্ব ছিলতখন সে আমাকে খুশি করার জন্য বলত , “ আমি যখন রাজা হব তুমি আমার সঙ্গে থাকবেআমি সত্য শপথ করে বলছি আমার রাজ্য , সম্পত্তি এবং সুখসবই তোমার হাতে থাকবেতাঁর প্রতিজ্ঞা স্মরণ করে আমি খুব খুশি এবং আনন্দিত ছিলামকিছুদিন পরে আমি শরদ্বানের কন্যা কৃপীকে বিবাহ করি এবং তাঁর গর্ভে সূর্যের ন্যায় তেজস্বী অশ্বত্থামা জন্মগ্রহণ করেএকদিন এক ঋষিকুমার তাঁর গাভীর দুধ পান করছিলেন , তাই দেখে অশ্বত্থামা দুধ খাবার জন্য অত্যন্ত কান্নাকাটি করতে থাকেতখন আমি চোখে অন্ধকার দেখলামকোনো গরিব গোয়ালার কাছ থেকে আমি দুধ নিতে চাইনি , তাতে তাদের ধর্ম - কর্মে বাঁধা পড়বেঅনেক চেষ্টা করেও একটি গাভী আমি জোগাড় করতে পারিনিফিরে এসে দেখি ছোট ছোট শিশুরা আটা জলে গুলে অশ্বত্থামাকে দুধ বলে লোভ দেখাচ্ছে আর অশ্বত্থামাও সেটি দুধ মনে করে খেয়ে আনন্দে নাচছে

              নিজের শিশুকে এইভাবে হাসি - আনন্দ করতে দেখে আমি খুব দুঃখ পেয়েছিলামআমি আমার এই দরিদ্র জীবনকে ধিক্কার দিচ্ছিলাম , আমার ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে গেছিলহে ভীষ্ম ! আমি যখন শুনলাম আমার প্রিয় সখা দ্রুপদ রাজা হয়েছেন , তখন আমি পত্নী পুত্র - সহ আনন্দিত চিত্তে দ্রুপদ রাজার রাজধানী গেলাম , কারণ দ্রুপদের শপথের ওপর আমার বিশ্বাস ছিলকিন্তু আমি যখন দ্রুপদের কাছে গেলাম , তিনি তখন অপরিচিতের ন্যায় আমাকে বললেন , ‘ ব্রাহ্মণ ! তোমার বুদ্ধি এখনও পরিপক্ক হয়নি এবং লোক - ব্যবহারেও তুমি অনভিজ্ঞ , তুমি কী করে বললে যে আমি তোমার সখা ! সেইসময় তুমি আর আমি দুজনেই সমান সমান ছিলাম , তাই বন্ধুত্ব ছিলএখন আমি ধনী রাজা আর তুমি গরিব ব্রাহ্মণ ! মিত্রতার দাবি একেবারেই ভুলতুমি বলছ আমি তোমাকে রাজ্য দেবার প্রতিজ্ঞা করেছিলাম , আমার তো তেমন কিছু মনে পড়ছে নাযদি চাও এখানে একদিন ভালো করে খাওয়া - দাওয়া করো' দ্রুপদের দ্বারা অপমানিত হয়ে আমার অন্তর জ্বলে যাচ্ছেসেখান থেকে চলে আসার সময় আমি প্রতিজ্ঞা করেছি এবং আমার প্রতিজ্ঞা শীঘ্রই পূর্ণ করবআমি গুণবান শিষ্যদের শিক্ষা প্রদানের উদ্দেশ্যেই এখানে এসেছিআপনি আমার কাছে কী আশা করেন ? আমি আপনার জন্য কী করতে পারি ? পিতামহ ভীষ্ম বললেন— “ আপনি আপনার ধনুকের ছিলা খুলে রাখুন আর এখানে থেকে রাজকুমারদের ধনুর্বাণ এবং অস্ত্রশিক্ষা দিনকৌরবদের ধন , বৈভব এবং রাজ্য আপনারইআমরা সকলেই আপনার নির্দেশ - পালনকারীআপনার শুভাগমন আমাদের পক্ষে সৌভাগ্যজনক হোক

 

 

 


No comments:

Post a Comment