Caturvidha Upāya’for Balancing the power of State
KU,SEM-III,CC-7,SEC-D
বিজয় লাভের উদ্দেশ্যে কর্ম সম্পাদনের যে কৌশল বা পদ্ধতি অবলম্বন করতে হয় তার পারিভাষিক নাম উপায় । উপায়চতুষ্টয় বলতে সাম- ভেদ - দও এই চার প্রকার উপয়াকেই বোঝায় –‘উপায়: সামোপপ্রদান-ভেদ-দন্ডা:’ । মহামতি কৌটিল্যের মতে রাজার সন্ধিবিগ্রহাদি কার্য শাসনের ( লিখিত পত্র বা নির্দেশের ) উপর নির্ভরশীল ; সন্ধিবিগ্রহাদির অনুষ্ঠান আবার উপায়চতুষ্টয়ের প্রয়োগ কৌশলের অধীন । সুতরাং শাসনলেখকের পক্ষে উপায়চতুষ্টয়ের জ্ঞান অপরিহার্য । এই কারণে কৌটিল্য শাসনাধিকারে উপায়চতুষ্টয়ের আলোচনা করেছেন ।অর্থশাস্ত্রকার কৌটিল্য , ধর্মশাস্ত্রকার মনু ,সহ অনেকেই বিজিগীষু রাজাকে এইসব উপায়সমূহের দ্বারা শত্রু জয় তথা রাষ্ট্র পরিচালনার পরামর্শ দিয়েছেন ।
চতুর্বিধ উপায়
ক) সাম :
সাম হল মিষ্টভাষণ । উদ্বেগ রহিত বাক্যকে বলে সাম । সামের দ্বারা বিনা অর্থব্যয়ে , বিনা পরিশ্রমে বা অর্থসৈন্য - সামন্ত ক্ষয় না করে শুধু মিষ্টি কথার দ্বারা উদ্দেশ্য সিদ্ধি সম্ভব হয় । তাতে রক্তক্ষয় , হানাহানির মত কোন অনিষ্ট কিছু ঘটে না , অথচ কার্যসিদ্ধি হয় । এই কারণে সবার আগে সামের দ্বারা কার্যসিদ্ধির প্রতি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে । কৌটিল্য পাঁচপ্রকার সামের কথা বলেছেন । যথা –
১ )গুণসংকীর্তন-
‘তত্রাভিজন - শরীর কর্ম - প্রকৃতি - শ্ৰুতি - দ্রব্যাদীনং গুণাগুণ - গ্রহণং প্রশংসা স্তুতি – সংকীর্তনম্’ |সাম ( ভাল কথা বা আচরণ ) দ্বারা শত্রুরাজা বা অন্য কোন ব্যক্তি বংশ , শরীর , কর্ম , স্বভাব , শাস্ত্রজ্ঞান বা দ্রবাদির ( হস্তী , অশ্ব , রথ প্রভৃতির ) গুণের যথাযথ বর্ণ করে প্রশংসা বা স্তুতি ( অর্থাৎ যে গুণ নেই তারও বর্ণনা ) করাকে বলে গুণসংকীর্তন |
২) সম্বন্ধোপাখ্যান
‘জ্ঞাতি - যৌন - মৌখ - স্রৌব - কুল - হৃদয় - মিত্র - সংকীর্তনং সম্বন্ধোপাখ্যানম্ । যে সাম প্রয়োগে কারো জ্ঞাতি ( জন্ম ) সম্বন্ধ , যৌনসম্বন্ধ ( বিবাহ ) , মৌখসম্বন্ধ ( অধ্যয়ন অধ্যাপনাদিজনিত ) , স্রৌবসম্বন্ধ ( যাজ্যযাজকরূপসম্বন্ধ ) , কুলসম্বন্ধ , হৃদয়সম্বন্ধ , মিত্রসম্বন্ধের উল্লেখ করা হয় তার নাম সম্বন্ধোপাখ্যান |
৩)পরস্পরোপকারসন্দর্শন:
যে সামপ্রয়োগে স্বপক্ষ ও পরপক্ষের পারস্পরিক উপকারের কথা বলা হয় , তাকে বলে পরস্পরোপকার - সন্দর্শন শ্রেণীর সাম –‘স্বপক্ষ পরপক্ষয়োরন্যোন্যোপকার - সংকীর্তনং পরস্পরোপকার – সন্দর্শনম্’ ।
৪) আয়তিপ্রদর্শন:
‘অস্মিন্নেবংকৃত ইদমাবয়োর্ভবতীত্যাশা-জননমায়তি – প্রদর্শনম্’- এই কাজ এভাবে করা হলে ভবিষ্যত আমাদের উভয়ের এরূপ শুভ ফল হবে - এরূপ আশা উৎপাদন করা বা ভবিষ্যতের শুভসূচনা করে যে সাম প্রযুক্ত হয় তা আয়তিপ্রদর্শন । ‘আয়তি’ কথার অর্থ ভবিষ্যৎ|
৫) আত্মোপনিধান:
আমিও যা , আপনিও তাই ; আমার যা কিছু জিনিস আছে সেসব আপনি নিজের খুশীমত কাজে লাগাতে পারেন ’ – ‘যো২হং স ভবান্ যন্মম দ্রবং তদ্ভবতা স্বকৃত্যেষু প্রযোজ্যতামিত্যাত্মোপনিধানম্’ -এরূপ আত্মসমর্পণমূলক উক্তি দ্বারা সামপ্রয়োগকে বলা হয় আত্মোপনিধান শ্রেণীর সাম ।
খ) দান বা উপপ্রদান :
কোন ব্যক্তির সন্তুষ্টি বিধানের জন্য ভূমি , স্বর্ণাদি , অর্থ প্রভৃতি প্রদান করে কারো উপকার করাকে বলা হয় উপপ্রদান বা দান । ‘উপপ্রদানমর্থোপকারঃ’ । দানের দ্বারা দারুণ যুদ্ধও রহিত হয় । শান্তি লাভে ব্যক্তি বলবানকে দানের দ্বারা প্রশমিত করবেন । কামন্দকাচার্য়ের মতে দান পাঁচ প্রকার ।
গ) ভেদ :
‘শঙ্কাজননং নির্ভর্ৎসনং চ ভেদঃ’ |কৌটিল্যের মতে ভেদ দুই প্রকার । পরস্পর সংহত ব্যক্তিদের মনে শঙ্কার উৎপাদন । নির্ভর্ৎসন অর্থাৎ অপকার করব বলে ধমক দেওয়া । কামন্দকীয়নীতিসারে ত্রিবিধ ভেদ স্বীকৃত হয়েছে । যাঁরা বেতন পান না তাঁদেরকে লুব্ধ করে , মানীব্যক্তিকে অবমানিত করে , ক্রোধীকে হঠাৎ রাগিয়ে এবং ভীতকে ভয় দেখিয়ে এই চারপ্রকার ব্যক্তিকে তাঁদের অভিলষিত বস্ত্র প্রদান করে ভেদ ঘটানো যায় ।
ঘ)দণ্ড :
সাম ও দণ্ডের দ্বারা যাবতীয় কার্যসিদ্ধি হয় বলে পণ্ডিতেরা চারপ্রকার উপায়ের মধ্যে সাম ও দণ্ডকেই সবিশেষ উপায় হিসেবে প্রশংসা করেন |সামাদি উপায়ের দ্বারা বিজিগীষুর উদ্দেশ্য সাধিত না হলে দমনের অন্যতম উপায় হল দণ্ড । দণ্ডের দ্বারা শত্রুকে বলপূর্বক দমন করা হয় ।দণ্ড তিন প্রকার — হত্যা , তাড়ন ( মারধোর করা ) বন্ধনাদি দ্বারা ক্লেশ - উৎপাদন এবং অর্থের অপহরণ । দণ্ডের দ্বারা হস্তী - অশ্ব - রথ - পদাতিক এই চতুর্বিধ সৈন্যবলকেও নির্দেশ করা হয় ।
বিজিগীষু রাজা তার রাজ্যের সামগ্রিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে অতি সন্তর্পনে উপরোক্ত চতুর্বিধ উপায় প্রয়োগ করবেন | সমতা পূর্বক উপায় চতুষ্টয় প্রযুক্ত হলে রাজ্যের শ্রীবৃদ্ধি অবধারিত |
------------------------------------

Very nice
ReplyDeleteThanks from
www.modernsanskrit.com
Thanks for that👍👍👍
ReplyDeleteBut I don't understand that is veda☹️☹️
Thank
ReplyDelete