Sunday, September 20, 2020

Important Thinkers on Indian Polity:Manu


K.U ,SEM-III,C-7,SEC-D

Important Thinkers on Indian Polity:

Manu

K.U ,SEM-III,C-7,SEC-D

Important Thinkers on Indian Polity:

Manu

ভূমিকা

      ধর্মকথার অর্থ  যা আমাদের সমাজ জীবনকে ধরে রাখে উপনিষদে ধ্বনিত হয়েছে-. ধর্মো বিশ্বস্য জগতঃ প্রতিষ্ঠা লোকে ধর্মিষ্ঠং প্রজা উপসর্বন্তি ,ধর্মেণ পাপমপনুদন্তি,ধর্মে সর্বং প্রতিষ্ঠিতং ,তস্মাদ্ধর্ম পরমং বদন্তি ।(মহানারায়ণোপনিষদ্-২২/)|  বৈদিক সাহিত্যের সঙ্গে সম্পর্কিত ধৰ্মসূত্রে উল্লিখিত  বিধিনিষেধগুলিকে ধর্মীয় নাগরিক আইনের প্রাথমিক রূপ বলে গণ্য করা যায় এগুলিতে চতুর্বর্ণ চতুরাশ্রমের পালনীয় বিধিনিষেধ লিপিবদ্ধ আছে ধর্মশাস্ত্রগুলিস্মৃতিশাস্ত্রসংহিতানামেও পরিচিত ভারতীয় ধর্মশাস্ত্রের ইতিহাসে মনুসংহিতার নাম সর্বাগ্রগণ্য যাজ্ঞবল্ক্য কথিত কুড়িজন ধর্মশাস্ত্রকারের মধ্যে আচার্য মনুর নাম সর্বপ্রথমে উল্লিখিত আধুনিক ভারতের সামাজিক রীতিনীতি আচারব্যবহারের নিয়ামক রূপে মনুসংহিতা যে একটি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ স্থান অধিকার করে আছে তা সকলেই একবাক্যে স্বীকার করেন |

মনুর পরিচয়

                    বৈদিকসাহিত্যে বহুবার মনুর নামটি উল্লিখিত হয়েছে ঋগবেদে মরুস্তুতিতে ( ২৩৩১৩ ) মনুকে পিতারূপে উল্লেখ করা হয়েছে অন্যত্র মনুকে প্রাচীন ঋষি , আদি মানব প্রভাবশালী পুরুষরূপে স্তুতি করা হয়েছে সায়ণাচার্য মনুকে বৈবস্বত মনু নামে উল্লেখ করেছেন এই বৈবস্বত মনু- সকল মনুর মধ্যে প্রাচীনতম মনুসংহিতায় সাতজন মনুর উল্লেখ রয়েছে কিন্তু আমরা মোট চোদ্দজন মনুর নাম পাই |যথা-স্বায়ম্ভুব , স্বারোচিষ , ঔত্তমি , তামস , রৈবত , চাক্ষুষ , বৈবস্বত , সাবর্ণি , দক্ষসাবর্ণি , ব্রহ্মসাবর্ণি, ধর্মসাবর্ণি, রুদ্রসাবর্ণি, দেবসাবর্ণি  ইন্দ্রসাবর্ণি মনুর পরিচয় দিতে গিয়ে ভাষ্যকার মেধাতিথি বলেছেন- মনুর্নাম কশ্চিৎ পুরুষবিশেষঃ অনেক বেদশাখাধ্যয়ন বিজ্ঞানানুষ্ঠানসম্পন্নঃ স্মৃতিপরম্পরাপ্রসিদ্ধঃ । ” মনু ছিলেন একজন পুরুষবিশেষ যিনি বহু বেদশাখা অধ্যয়ন করেছিলেন, তিনি ছিলেন বেদ এবং বৈদিকযজ্ঞানুষ্ঠানকর্তা স্মৃতিশাস্ত্রের পরম্পরায় তিনি ছিলেন বিখ্যাত এখানে একটি কথা স্মরণীয় যে বেদ উপনিষদ মহাভারত প্রভৃতিতে যে মনুর পরিচয় পাওয়া যায় সেই মনুই যে বর্তমানে প্রাপ্ত মনুসংহিতার রচয়িতা একথা নিশ্চিতভাবে বলা যায় না কারণ মনুসংহিতার ভাষা বিষয়বস্তু বৈদিক সাহিত্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়

রচনাকাল

       মনুসংহিতার রচনাকাল নিয়ে মতভেদ আছে গ্রন্থটির সুপ্রসিদ্ধ মেধাতিথিভাষ্যের রচনাকাল ৯০০ খ্রীষ্টাব্দ বৃহস্পতিসংহিতায় মনুসংহিতার প্রাধান্যের কথা বলা হয়েছে মনুসংহিতার দশম অধ্যায়ে দুটি শ্লোকে ( ১০ / ৪৪-৪৫ ) পৌণ্ড্রক , ওড় , দ্রাবিড় , কাম্বোজ , যবন , শক , পারদ , পহুব , চীন প্রভৃতি জাতিগুলির উল্লেখ আছে এই জাতিগুলির মধ্যে শক যবন , পহুব প্রভৃতি বৈদেশিক জাতিগুলি খ্রষ্টীয় প্রথম শতকে ভারতবর্ষে আধিপত্য বিস্তারে প্রয়াসী হয়েছিল তাই এই সকল তথ্য প্রমাণ থেকে অনুমান করা যায় যে মনুসংহিতার রচনাকাল খ্রীষ্টপূর্ব দ্বিতীয় শতক থেকে খ্রীষ্টীয় দ্বিতীয় শতক এবং বর্তমানে প্রচলিত মনুসংহিতা মহাভারতের পূর্বে রচিত হয়েছিল অধ্যাপক ব্যুহলার এই মতকে সমর্থন করছেন |

মনুসংহিতার বিষয়বস্তু

                    দ্বাদশ অধ্যায়ে উপন্যস্ত এই গ্রন্থের

·       প্রথম অধ্যায়ে বর্ণিত হয়েছে দেবতা , ঋষি প্রভৃতি থেকে বনস্পতির সৃষ্টি এবং ব্রাহ্মণাদি চতুর্বর্ণের পালনীয় কর্ম আচার

·       দ্বিতীয় অধ্যায়ে আছে ধর্মের স্বরূপ .উৎস এবং ব্রহ্মচর্য ব্রহ্মচারীর কর্তব্যাকর্তব্যের বর্ণনা

·       তৃতীয় অধ্যায়ের মূল আলোচ্য বিবাহ তৎসংশ্লিষ্ট বিষয় , গৃহস্থের পালনীয় পঞ্চ মহাযজ্ঞ এবং শ্রাদ্ধাদি সংস্কার

·       চতুর্থ অধ্যায়ে বর্ণিত হয়েছে  গৃহস্থের পালনীয় বিধি

·       পঞ্চম অধ্যায়ে আলোচিত হয়েছে ভক্ষাভক্ষবিচার , অশৌচ , দ্রব্যশুদ্ধি স্ত্রী-ধর্ম

·       ষ্ঠ অধ্যায়ে আছে বাণপ্রস্থ সন্ন্যাস আশ্রমের কথা

·       গুরুপূর্ণ সপ্তম অধ্যায়ের  বিষয় রাজধর্ম এখানে আলোচিত হয়েছে ঈশ্বর কর্তৃক রাজার উৎপত্তি ,রাজা রাজদণ্ডের মহিমা , রাজার সহায়ক পদাধিকারীবৃন্দ , করনীতি  প্রভৃতি

·       অষ্টম অধ্যায়ের মূল আলোচ্য সচিব মন্ত্রীগণের সাহায্যে রাজার বিচারকার্য পরিচালনা এবং সপ্তপ্রকার দাস নারীর সম্পত্তিতে অধিকার

·       সমাজতত্ত্বের দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ নবম অধ্যায়ে আলোচিত হয়েছে স্বামী - স্ত্রীর কর্তব্য তৎকালীন সমাজে প্রচলিত নিয়োগপ্রথা তার নিন্দা , সম্পত্তির বিভাগ , স্ত্রীধন তার উত্তরাধিকার ; বৈশ্য শূদ্রের কর্তব্য ইত্যাদি

·       দশম অধ্যায়ে বর্ণধর্ম , ম্লেচ্ছ কাম্বোজাদি সঙ্করজাতির উৎপত্তি , সর্ব বর্ণের আচরণবিধি প্রভৃতি আলোচিত হয়েছে

·       একাদশ অধ্যায়ে প্রায়শ্চিত্তবিধিসমূহ বিশেষভাবে আলোচিত হয়েছে

·       দ্বাদশ অধ্যায়ে আছে শুভাশুভ কর্মফলের বিস্তৃত বর্ণনা

 

মনুসংহিতার টীকা টীকাকার -

                   মনুসংহিতার অজস্র টীকা আছে সেগুলির মধ্যে মেধাতিথি , গোবিন্দরাজ কুল্লূকের টীকাই সর্বাপেক্ষা প্রসিদ্ধ

     মনুসংহিতার টীকাকার

টীকা

মেধাতিথি

মনুভাষ্য

গোবিন্দরাজ

মনুটীকা

কুল্লূকভট্ট

মন্বর্থমুক্তাবলী

সর্বজ্ঞনারায়ণ

মন্বর্থবিবৃতি

 

 

 

মনুসংহিতার বৈশিষ্ট্য-

         রাষ্ট্রনীতিবিদ অপেক্ষা সমাজনিয়ন্তারূপেই মনু অধিকতর মান্যতিনি ব্রাহ্মণের সর্বময় প্রাধান্য প্রতিষ্ঠা করেছেন , তবে সেই সঙ্গে ব্রাহ্মণের আচারনিষ্ঠাও অপরিহার্য বলে ঘোষণা করেছেনশূদ্রদের প্রতি তিনি সুবিচার করেননিঅন্য তিন বর্ণের সেবাই তাদের একমাত্র কর্তব্যরূপে তিনি নির্দেশ করেছেনসমাজে নারীর অবস্থান সম্পর্কে তার মধ্যে স্ববিরোধ দেখা যায়তিনি একদিকে নারীকে পরম সমাদরণীয়া বলেছেন-‘যত্র নার্যস্তু পুজ্যন্তে রমন্তে তত্র দেবতা:’(/৫৬) , আবার অন্যদিকে তার জীবনের প্রতিপর্বে পুরুষনির্ভরতার কথাও বলেছেন-‘ স্বাতন্ত্র্যেন কর্তব্যং কিঞ্চিত্ কার্যং গৃহেষ্বপি(/১৪৭) । বিধবাবিবাহ তিনি সমর্থন করেননিঅবশ্য তিনি উদ্ভিদেরও অন্তঃচৈতন্যের কথা বলেছেন

মনুসংহিতার বৈশিষ্ট্য-

         মনুসংহিতায় প্রাচীন ভারতের অর্থনীতি বিষয়ক বহু  তথ্য পাওয়া যায়সেসময় ব্যবসা শিল্প এই উভয় কর্মে নিযুক্ত ব্যক্তিদেরকে নিয়ন্ত্রণ করত কুল , পূগ , শ্রেণী গণ নামক সমিতিগুলিপণ্যদ্রব্যের মূল্য নির্ধারণ করতেন রাজাতিনি নানাদিক বিচার করে ক্রেতা বিক্রেতা উভয়ের স্বার্থরক্ষা হয় এমনভাবেই মূল্য বেঁধে দিতেনমনুর মতে সাতটি উপায়ে ধনলাভ ধর্মসঙ্গতদায় , লাভ , ক্রয় , জয় , প্রয়োগ , কর্মযোগ সৎপ্রতিগ্ৰহভারতবর্ষে অতি প্রাচীন কাল থেকেই যে ধাতব মুত্রার ব্যবহার ছিল তা মনুসংহিতা থেকে জানা যায়প্রাচীন ভারতের শিক্ষা ব্যবস্থার উপরেও মনুসংহিতা যথেষ্ট আলোকপাত করেছেমনুসংহিতায় যে শিক্ষার আদর্শ বর্ণিত হয়েছে তা প্রাচীনভারতীয় ঐতিহ্য সম্মতসমগ্র ভারতে এই রীতিতেই শিক্ষাদান করা হত এবং মনুক্তে শিক্ষার্থীর জীবনাদর্শই সমগ্র ভারতে অনুসৃত হত

তথ্যসূত্র – ধর্ম-অর্থ-নীতিশাস্ত্রসমীক্ষা –ড: সুমিতা বসু ন্যায়তীর্থ |


No comments:

Post a Comment