K.U
,SEM-III,C-7,SEC-D
Important Thinkers
on Indian Polity:
Manu
K.U
,SEM-III,C-7,SEC-D
Important Thinkers
on Indian Polity:
Manu
ভূমিকা —
‘ধর্ম’ কথার অর্থ যা আমাদের সমাজ জীবনকে ধরে রাখে । উপনিষদে ধ্বনিত হয়েছে-. ‘ধর্মো বিশ্বস্য জগতঃ প্রতিষ্ঠা লোকে ধর্মিষ্ঠং প্রজা উপসর্বন্তি ,ধর্মেণ পাপমপনুদন্তি,ধর্মে সর্বং প্রতিষ্ঠিতং ,তস্মাদ্ধর্ম পরমং বদন্তি ।(মহানারায়ণোপনিষদ্-২২/১)| বৈদিক সাহিত্যের সঙ্গে সম্পর্কিত ধৰ্মসূত্রে উল্লিখিত বিধিনিষেধগুলিকে ধর্মীয় নাগরিক আইনের প্রাথমিক রূপ বলে গণ্য করা যায় । এগুলিতে চতুর্বর্ণ ও চতুরাশ্রমের পালনীয় বিধিনিষেধ লিপিবদ্ধ আছে । ধর্মশাস্ত্রগুলি ‘স্মৃতিশাস্ত্র’ ও ‘সংহিতা’ নামেও পরিচিত । ভারতীয় ধর্মশাস্ত্রের ইতিহাসে মনুসংহিতার নাম সর্বাগ্রগণ্য । যাজ্ঞবল্ক্য কথিত কুড়িজন ধর্মশাস্ত্রকারের মধ্যে আচার্য মনুর নাম সর্বপ্রথমে উল্লিখিত । আধুনিক ভারতের সামাজিক রীতিনীতি ও আচারব্যবহারের নিয়ামক রূপে মনুসংহিতা যে একটি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ স্থান অধিকার করে আছে তা সকলেই একবাক্যে স্বীকার করেন |
মনুর পরিচয় —
বৈদিকসাহিত্যে বহুবার মনুর নামটি উল্লিখিত হয়েছে । ঋগবেদে মরুস্তুতিতে ( ২৩৩।১৩ ) মনুকে পিতারূপে উল্লেখ করা হয়েছে । অন্যত্র মনুকে প্রাচীন ঋষি , আদি মানব ও প্রভাবশালী পুরুষরূপে স্তুতি করা হয়েছে । সায়ণাচার্য মনুকে বৈবস্বত মনু নামে উল্লেখ করেছেন । এই বৈবস্বত মনু-ই সকল মনুর মধ্যে প্রাচীনতম । মনুসংহিতায় সাতজন মনুর উল্লেখ রয়েছে । কিন্তু আমরা মোট চোদ্দজন মনুর নাম পাই |যথা-স্বায়ম্ভুব , স্বারোচিষ , ঔত্তমি , তামস , রৈবত , চাক্ষুষ , বৈবস্বত , সাবর্ণি , দক্ষসাবর্ণি , ব্রহ্মসাবর্ণি, ধর্মসাবর্ণি, রুদ্রসাবর্ণি, দেবসাবর্ণি ও ইন্দ্রসাবর্ণি
।মনুর পরিচয় দিতে গিয়ে ভাষ্যকার মেধাতিথি বলেছেন- “মনুর্নাম কশ্চিৎ পুরুষবিশেষঃ অনেক বেদশাখাধ্যয়ন বিজ্ঞানানুষ্ঠানসম্পন্নঃ স্মৃতিপরম্পরাপ্রসিদ্ধঃ । ” মনু ছিলেন একজন পুরুষবিশেষ যিনি বহু বেদশাখা অধ্যয়ন করেছিলেন, তিনি ছিলেন বেদ এবং বৈদিকযজ্ঞানুষ্ঠানকর্তা । স্মৃতিশাস্ত্রের পরম্পরায় তিনি ছিলেন বিখ্যাত । এখানে একটি কথা স্মরণীয় যে বেদ উপনিষদ মহাভারত প্রভৃতিতে যে মনুর পরিচয় পাওয়া যায় সেই মনুই যে বর্তমানে প্রাপ্ত মনুসংহিতার রচয়িতা একথা নিশ্চিতভাবে বলা যায় না । কারণ মনুসংহিতার ভাষা ও বিষয়বস্তু বৈদিক সাহিত্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় ।
রচনাকাল —
মনুসংহিতার রচনাকাল নিয়ে মতভেদ আছে । গ্রন্থটির সুপ্রসিদ্ধ মেধাতিথিভাষ্যের রচনাকাল ৯০০ খ্রীষ্টাব্দ । বৃহস্পতিসংহিতায় মনুসংহিতার প্রাধান্যের কথা বলা হয়েছে । মনুসংহিতার দশম অধ্যায়ে দুটি শ্লোকে ( ১০ / ৪৪-৪৫ ) পৌণ্ড্রক , ওড় , দ্রাবিড় , কাম্বোজ , যবন , শক , পারদ , পহুব , চীন প্রভৃতি জাতিগুলির উল্লেখ আছে । এই জাতিগুলির মধ্যে শক যবন , পহুব প্রভৃতি বৈদেশিক জাতিগুলি খ্রষ্টীয় প্রথম শতকে ভারতবর্ষে আধিপত্য বিস্তারে প্রয়াসী হয়েছিল । তাই এই সকল তথ্য প্রমাণ থেকে অনুমান করা যায় যে মনুসংহিতার রচনাকাল খ্রীষ্টপূর্ব দ্বিতীয় শতক থেকে খ্রীষ্টীয় দ্বিতীয় শতক এবং বর্তমানে প্রচলিত মনুসংহিতা মহাভারতের পূর্বে রচিত হয়েছিল । অধ্যাপক ব্যুহলার ও এই মতকে সমর্থন করছেন |
মনুসংহিতার বিষয়বস্তু —
দ্বাদশ অধ্যায়ে উপন্যস্ত এই গ্রন্থের
·
প্রথম অধ্যায়ে বর্ণিত হয়েছে দেবতা , ঋষি প্রভৃতি থেকে বনস্পতির সৃষ্টি এবং ব্রাহ্মণাদি চতুর্বর্ণের পালনীয় কর্ম ও আচার ।
·
দ্বিতীয় অধ্যায়ে আছে ধর্মের স্বরূপ ও.উৎস এবং ব্রহ্মচর্য ও ব্রহ্মচারীর কর্তব্যাকর্তব্যের বর্ণনা ।
·
তৃতীয় অধ্যায়ের মূল আলোচ্য বিবাহ ও তৎসংশ্লিষ্ট বিষয় , গৃহস্থের পালনীয় পঞ্চ মহাযজ্ঞ এবং শ্রাদ্ধাদি সংস্কার ।
·
চতুর্থ অধ্যায়ে বর্ণিত হয়েছে গৃহস্থের পালনীয় বিধি ।
·
পঞ্চম অধ্যায়ে আলোচিত হয়েছে ভক্ষাভক্ষবিচার , অশৌচ , দ্রব্যশুদ্ধি ও স্ত্রী-ধর্ম ।
·
ষষ্ঠ অধ্যায়ে আছে বাণপ্রস্থ ও সন্ন্যাস আশ্রমের কথা ।
·
গুরুপূর্ণ সপ্তম অধ্যায়ের বিষয় রাজধর্ম । এখানে আলোচিত হয়েছে ঈশ্বর কর্তৃক রাজার উৎপত্তি ,রাজা ও রাজদণ্ডের মহিমা , রাজার সহায়ক পদাধিকারীবৃন্দ , করনীতি প্রভৃতি ।
·
অষ্টম অধ্যায়ের মূল আলোচ্য সচিব ও মন্ত্রীগণের সাহায্যে রাজার বিচারকার্য পরিচালনা এবং সপ্তপ্রকার দাস ও নারীর সম্পত্তিতে অধিকার ।
·
সমাজতত্ত্বের দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ নবম অধ্যায়ে আলোচিত হয়েছে স্বামী - স্ত্রীর কর্তব্য । তৎকালীন সমাজে প্রচলিত নিয়োগপ্রথা ও তার নিন্দা , সম্পত্তির বিভাগ , স্ত্রীধন ও তার উত্তরাধিকার ; বৈশ্য ও শূদ্রের কর্তব্য ইত্যাদি ।
·
দশম অধ্যায়ে বর্ণধর্ম , ম্লেচ্ছ কাম্বোজাদি সঙ্করজাতির উৎপত্তি , সর্ব বর্ণের আচরণবিধি প্রভৃতি আলোচিত হয়েছে ।
·
একাদশ অধ্যায়ে প্রায়শ্চিত্তবিধিসমূহ বিশেষভাবে আলোচিত হয়েছে ।
·
দ্বাদশ অধ্যায়ে আছে শুভাশুভ কর্মফলের বিস্তৃত বর্ণনা ।
মনুসংহিতার টীকা ও টীকাকার -
মনুসংহিতার অজস্র টীকা আছে । সেগুলির মধ্যে মেধাতিথি , গোবিন্দরাজ ও কুল্লূকের টীকাই সর্বাপেক্ষা প্রসিদ্ধ ।
|
মনুসংহিতার টীকাকার |
টীকা |
|
মেধাতিথি |
মনুভাষ্য |
|
গোবিন্দরাজ |
মনুটীকা |
|
কুল্লূকভট্ট |
মন্বর্থমুক্তাবলী |
|
সর্বজ্ঞনারায়ণ |
মন্বর্থবিবৃতি |
মনুসংহিতার বৈশিষ্ট্য-
রাষ্ট্রনীতিবিদ অপেক্ষা সমাজনিয়ন্তারূপেই মনু অধিকতর মান্য । তিনি ব্রাহ্মণের সর্বময় প্রাধান্য প্রতিষ্ঠা করেছেন , তবে সেই সঙ্গে ব্রাহ্মণের আচারনিষ্ঠাও অপরিহার্য বলে ঘোষণা করেছেন।শূদ্রদের প্রতি তিনি সুবিচার করেননি । অন্য তিন বর্ণের সেবাই তাদের একমাত্র কর্তব্যরূপে তিনি নির্দেশ করেছেন । সমাজে নারীর অবস্থান সম্পর্কে তার মধ্যে স্ববিরোধ দেখা যায় । তিনি একদিকে নারীকে পরম সমাদরণীয়া বলেছেন-‘যত্র নার্যস্তু পুজ্যন্তে রমন্তে তত্র দেবতা:’(৩/৫৬) , আবার অন্যদিকে তার জীবনের প্রতিপর্বে পুরুষনির্ভরতার কথাও বলেছেন-‘ন স্বাতন্ত্র্যেন কর্তব্যং কিঞ্চিত্ কার্যং গৃহেষ্বপি(৫/১৪৭) । বিধবাবিবাহ তিনি সমর্থন করেননি । অবশ্য তিনি উদ্ভিদেরও অন্তঃচৈতন্যের কথা বলেছেন ।
মনুসংহিতার বৈশিষ্ট্য-
মনুসংহিতায় প্রাচীন ভারতের অর্থনীতি বিষয়ক বহু তথ্য পাওয়া যায় । সেসময় ব্যবসা ও শিল্প এই উভয় কর্মে নিযুক্ত ব্যক্তিদেরকে নিয়ন্ত্রণ করত কুল , পূগ , শ্রেণী ও গণ নামক সমিতিগুলি । পণ্যদ্রব্যের মূল্য নির্ধারণ করতেন রাজা । তিনি নানাদিক বিচার করে ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয়ের স্বার্থরক্ষা হয় এমনভাবেই মূল্য বেঁধে দিতেন ।মনুর মতে সাতটি উপায়ে ধনলাভ ধর্মসঙ্গত – দায় , লাভ , ক্রয় , জয় , প্রয়োগ , কর্মযোগ ও সৎপ্রতিগ্ৰহ । ভারতবর্ষে অতি প্রাচীন কাল থেকেই যে ধাতব মুত্রার ব্যবহার ছিল তা মনুসংহিতা থেকে জানা যায় । প্রাচীন ভারতের শিক্ষা ব্যবস্থার উপরেও মনুসংহিতা যথেষ্ট আলোকপাত করেছে । মনুসংহিতায় যে শিক্ষার আদর্শ বর্ণিত হয়েছে তা প্রাচীনভারতীয় ঐতিহ্য সম্মত । সমগ্র ভারতে এই রীতিতেই শিক্ষাদান করা হত এবং মনুক্তে শিক্ষার্থীর জীবনাদর্শই সমগ্র ভারতে অনুসৃত হত ।
তথ্যসূত্র – ধর্ম-অর্থ-নীতিশাস্ত্রসমীক্ষা –ড: সুমিতা বসু ন্যায়তীর্থ
|

No comments:
Post a Comment