পুরাণসাহিত্য হচ্ছে ভারতীয় সংস্কৃতি মূলাধার। ‘পুরাণ’ শব্দের অর্থ প্রাচীন কথা । ব্রাহ্মণসাহিত্যে ও উপনিষদে ‘ইতিহাসপুরাণ’ শব্দের উল্লেখ করা হয়েছে। বৈদিক সাহিত্যে আখ্যান, উপাখ্যান, পুরাণ, ইতিহাস প্রায় সমার্থকরূপে ব্যবহৃত হয়েছে। অমরকোষে বলা হয়েছে—‘পুরাণং পঞ্চলক্ষণম্’।
প্রাচীন পুরাণগুলিতে প্রদত্ত সংঞ্জা অনুযায়ী পুরাণ হল পুরাকালের বিবরণ। যেহেতু পুরাকালে বা অতীতে এইরকম ঘটেছিল, তাই এর নাম পুরাণ— ‘পুরাতনস্য কল্পস্য পুরাণানি বিদুর্বুধাঃ’ (মৎস্যপুরাণ)।ইতিহাসের সঙ্গে পুরাণের পার্থক্য আছে। নিরুক্তকারদের মতে ইতিহাস ও পুরাণ শব্দের অর্থ—
‘পুরাণং কস্মাৎ? পুরা নবং ভবতি।
‘নিদানভূতম্ ইতি হ এবমসীৎ ইতি যত্র উচ্যতে স ইতিহাসঃ’।
বিখ্যাত পুরাণ গবেষক পণ্ডিত Pargiter বলেছেন-- Purāņa means any ‘old tale' or ‘ancient lore' generally, and Itihāsa would seen properly to denote a story of fact in accordance with its derivation ʻइति ह आसʼ, which rather denotes actual transitional history.’
পুরাণের শ্রেণীবিভাগ—
সমগ্র পুরাণ সাহিত্যকে মহাপুরাণ ও উপপুরাণ ভেদে দু’ভাগে ভাগ করা হয়েছে। মহাপুরাণ ১৮ টি এবং উপপুরাণও১৮টি।
১৮টি মহাপুরাণ যথা—ব্রহ্ম, পদ্ম, বিষ্ণু, শিব বা বায়ু, ভাগবত, নারদীয়, মার্কণ্ডেয়, আগ্নেয়, ভবিষ্য বা ভবিষ্যৎ, ব্রহ্মবৈবর্ত, লিঙ্গ, বরাহ, বামন, কূর্ম, মৎস্য, গরুড় ও ব্রহ্মাণ্ড।
১৮টি উপপুরাণ—উপপুরাণ সম্বন্ধে মতভেদ আছে। বৃহদ্ধর্মপুরাণের মতে উপপুরাণগুলি হল—
আদি, আদিত্য, বৃহন্নারদীয়, নন্দীশ্বর, বৃহন্নন্দীশ্বর, শাম্ব, ক্রিয়াযোগসার, কালিকা, ধর্ম, বিষ্ণুধর্মোত্তর, শিবধর্ম,বিষ্ণুধর্ম, বামন, বারুণ, নারসিংহ, ভা্র্গব এবং বৃহদ্ধর্ম।
মৎস্যপুরাণে পুরাণগুলিকে চারভাগে ভাগ করা হয়েছে—
১. রাজস্- ব্রহ্ম, ব্রহ্মাণ্ড, ব্রহ্মবৈবর্ত, মার্কণ্ডেয়, ভবিষ্য ও বামন এই ভাগের অন্তর্গত। এই পুরাণগুলিতে ব্রহ্মারপ্রাধান্য স্বীকৃত হয়েছে।
২. সাত্ত্বিক-ভাগবত, নারদীয়, গরুড়, পদ্ম, বরাহ ও বিষ্ণু এই ভাগের অন্তর্গত। এই পুরাণগুলিতে বিষ্ণুর প্রাধান্যস্বীকৃত হয়েছে ।
৩. তামস্—শিব, লিঙ্গ, স্কন্দ, আগ্নেয়, মৎস্য ও কূর্ম এই ভাগের অন্তর্গত। এই পুরাণগুলিতে শিবের প্রাধান্য স্বীকৃতহয়েছে।
৪. সঙ্কীর্ণ—মূলতঃ কিছু উপপুরাণ এর অন্তর্গত। এখানে সরস্বতী ও পিতৃগণের মাহাত্ম্য কীর্তিত হয়েছে।
No comments:
Post a Comment