Monday, December 9, 2024

अभिज्ञानशकुन्तम् इति नाटके विदूषकः

 

आसीद् विदूषकः? कालिदासस्य अभिज्ञानशकुन्तम् इति नाटके तस्य भूमिका सम्यग् आलोचयत

 

উত্তরম্‌-- সংস্কৃত নাটকে বিদূষক একটি type চরিত্র প্রধানতঃ হাস্যরসের আধাররূপে চরিত্রটি কল্পিত হয়ে থাকে সংস্কৃত আলঙ্কারিকদের মতে বিদূষকের বৈশিষ্ট্য হল

কুসুমবসন্তাদ্যভিধঃ কর্মবপুর্বেষভাষাদ্যৈঃ

হাস্যকরঃ কলহরতির্বিদূষকঃ স্যাৎ স্বকর্মজ্ঞঃ’।।

অর্থাৎ ফুল বা ঋতুর নামে বিদূষকের নাম হবে। তিনি তার কাজকর্ম, আকৃতি, পোষাক-পরিচ্ছদ ও বাক্যের দ্বারা সকলের হাস্যরস উদ্রেক করবেন। কলহপ্রিয় হলেও নিজের কাজ সম্বন্ধে সচেতন হবেন। সংস্কৃত নাটকে বিদূষকের প্রধান পরিচয় রাজার নর্মসচিব হিসাবে। তবে নাট্যকারগণ প্রয়োজন অনুসারে বিদূষক চরিত্রের অনেক পরিবর্তন ঘটিয়েছেন।

 

অভিজ্ঞানশকুন্তলম্‌ নাটকে বিদূষকের ভূমিকা—

অভিজ্ঞানশকুন্তলম্‌ নাটকে বিদূষকের নাম মাধব্য। তিনি রাজা দুষ্যন্তের প্রিয়বন্ধু। তিনি জাতিতে ব্রাহ্মণ, হাস্যরসিক, ভোজনরসিক, হাতে তার দন্ডকাষ্ঠ, বিচিত্র তার বাচনভঙ্গী। এই নাটকের দ্বিতীয়, পঞ্চম ও ষষ্ঠ অঙ্কে তাকে দেখা যায়।

 

দ্বিতীয় অঙ্কে বিদূষক—


অভিজ্ঞানশকুন্তলম্‌ নাটকের দ্বিতীয় অঙ্কে বিদূষক প্রধানতঃ হাস্যরস সৃজনের ভূমিকায় অবতীর্ণ। রাজা দুষ্যন্তের বয়স্য হওয়ার জন্য তার অনেক খেদ। মৃগয়ায় এসে অনিয়মিত আহার এবং মালিনীনদীর কষায় জল পান করতে তার কষ্ট। বন থেকে বনান্তরে ঘুরতে ঘুরতে তার সারা গায়ে ব্যথা। রাতেও ভাল ঘুম হয় না। তার উপর আবার সকাল বেলাতেই পাখিশিকারীদের চিৎকারে তার ঘুম ভাঙে। সাময়িক বিশ্রামলাভের জন্য তিনি শরীর একটু বাঁকা করে দণ্ডকাষ্ঠ অবলম্বন করে দাঁড়িয়ে থাকেন

বিদূষক লঘুস্বভাবের হলেও মূর্খ নন। লোকচরিত্র সম্বন্ধেও তিনি অভিজ্ঞ। দুষ্যন্ত শকুন্তলার ব্যাপারে মনের কথা খুলে বললেও বিদূষক তাতে কোন উৎসাহ দেখান নি। বরং তিনি বলেছেন--  ‘ভবতু অস্মৈ অবসরং ন দাস্যামি’। এরপর তিনি পরিহাস করে বলেন--  ‘যথা কস্যাপি পিণ্ডখর্জুরৈঃ উদ্বেজিতস্য তিন্তিল্যাম্‌ অভিলাষো ভবেৎ, তথা স্ত্রীরত্নপরিভোগিনো ভবত ইয়মভ্যর্থনা’।


পঞ্চম অঙ্কে বিদূষক—


পঞ্চম অঙ্কে বিদূষকের ভূমিকা সামান্য। হংসপদিকার গান যে শুধুমাত্র একটি গান নয়, এর অন্য তাৎপর্য আছে সে সম্বন্ধে বিদূষক দুষ্যন্তকে বলেছেন--  ‘কিং তাবদ্‌ গীতেরবগতঃ অক্ষরার্থঃ’? এরপর দুষ্যন্তের কথানুসারে উপযুক্ত নাগরিকবৃত্তির দ্বারা হংসপদিকার অভিমান শান্ত করার জন্য বিদূষক অন্তঃপুরে চলে যান।


ষষ্ঠ অঙ্কে বিদূষক—


ষষ্ঠ অঙ্কে বিদূষক অনুশোচনাগ্রস্ত দুষ্যন্তকে সান্ত্বনা দিয়ে সুস্থ রেখেছেন দুষ্যন্ত শকুন্তলার প্রত্যাখ্যান-জনিত কারণে এতটাই কাতর ছিলেন যে, তিনি সমস্ত রাজকার্য পরিত্যাগ করেছিলেন। দুষ্যন্ত ভেবেছিলেন—শকুন্তলার সঙ্গে তাঁর কোনদিন মিলন হবে না। বিদূষক তাঁকে সান্ত্বনা দিয়ে বলেছেন-- ‘অনুপপন্নং ত্বয়ি। কদাপি সৎপুরুষাঃ শোকবাস্তব্যাঃ ন ভবন্তি’। বিদূষক আরো বলেছেন--  ‘ন খলু মাতাপিতরৌ ভর্তৃবিয়োগদুঃখিতাং দুহিতরং চিরং দ্রষ্টুং পারয়তঃ’। এখানে বিদূষকের সাংসারিক জ্ঞানের পরিচয় পাওয়া যায়।

 

নাটকীয় কাহিনীর বিকাশে বিদূষকের ভূমিকা—


অভিজ্ঞানশকুন্তলম্‌ নাটকে বিদূষকের প্রত্যক্ষ ভূমিকার চেয়ে পরোক্ষ ভূমিকাই বেশী। দ্বিতীয় অঙ্কে মহর্ষি কণ্বের আশ্রমে অবস্থানকালে দুষ্যন্ত বিদূষকের কাছে শকুন্তলা সম্বন্ধে তাঁর মনের কথা বলেছিলেন। রাজপ্রাসাদ থেকে রাজমাতার আদেশ নিয়ে করভক নামে দূত এলে বিদূষককে তাঁর প্রতিনিধি করে করভকের সঙ্গে পাঠিয়ে দেন। বিদূষক চঞ্চল প্রকৃতির, তাই দুষ্যন্ত আশঙ্কা করেছিলেন—তিনি অন্তঃপুরের রাণীদের কাছে শকুন্তলার সঙ্গে তাঁর প্রণয়ের ব্যাপার প্রকাশ করে দিতে পারেন। তাতে অনর্থ হতে পারে। সেইজন্য দুষ্যন্ত বিদূষকের হাত ধরে বলেছিলেন--  ‘পরিহাসবিজল্পিতং সখে! পরমার্থেন ন গৃহ্যতাং বচঃ’।

এর মাধ্যমে শকুন্তলার সঙ্গে দুষ্যন্তের ঘনিষ্ঠতা এবং বিবাহ-ব্যাপার প্রত্যক্ষ করা থেকে দূরে রাখা হল যাতে তিনি কোনভাবেই শকুন্তলা-ব্যাপারে জড়িত না থাকেন। সেইজন্যই কৌশলে তাকে রাজধানীতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।  

 

পঞ্চম অঙ্কে হংসপদিকাকে শান্ত করার জন্য বিদূষককে অন্তঃপুরে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। যাওয়ার সময় বিদূষক বলেন--  হংসপদিকার হাত থেকে দীর্ঘক্ষণ নিস্তার পাওয়া যাবে না--  ‘গৃহীতস্য তয়া পরকীয়ৈঃ হস্তৈঃ শিখণ্ডকে তাড্যমানস্য অপ্সরসঃ বীতরাগস্যেব নাস্তি ইদানীং মে মোক্ষঃ’।

এই ঘটনার মাধ্যমে বিদূষককে মূল দৃশ্যের বাইরে রাখা হয়েছে। একটু পরেই দেখা যাবে--  শার্ঙ্গরব, শারদ্বত ও গৌতমীর সঙ্গে শকুন্তলা দুষ্যন্তের সামনে উপস্থিত। দুর্বাসার অভিশাপে স্মৃতি নষ্ট হওয়ায় দুষ্যন্ত শকুন্তলাকে চিনতে না পেরে পরস্ত্রী বলে প্রত্যাখ্যান করেন। ঐ সময়ে বিদূষক উপস্থিত থাকলে তিনি রাজার বিরুদ্ধে মিথ্যা কথা বলার অভিযোগ তুলতে পারতেন। কারণ, শাপের দ্বারা দুষ্যন্তের স্মৃতি নষ্ট হলেও বিদূষকের স্মৃতি নষ্ট হওয়ার কথা নয়। তাতে অযথা জটিলতা বৃদ্ধি পেত। বিদূষককে দূরে সরিয়ে রেখে নাট্যকাহিনীকে জটিলতামুক্ত করা হয়েছে। এখানে বিদূষকের পরোক্ষ ভূমিকাই সমধিক।

 

ষষ্ঠ অঙ্কে রাজা দুষ্যন্তকে সঙ্কটাপন্ন অবস্থায় বুদ্ধি স্থির রাখতে বিদূষক প্রত্যক্ষভাবে এবং রাজার ক্ষাত্রতেজ জাগ্রত করতে পরোক্ষ ভূমিকা পালন করেছেন। বিদূষক শোকগ্রস্ত দুষ্যন্তকে আশ্বস্ত করে বলেছেন--  ‘যথাসময়ে শকুন্তলার সঙ্গে তাঁর মিলন হবে। বিদূষক রাজকর্মচারী হয়েও এই অংশে প্রকৃত বন্ধুর মতো কাজ করেছেন।    

দেবরাজ ইন্দ্রের রথের সারথি মাতলি দুষ্যন্তের ক্ষাত্রতেজ জাগ্রত করার জন্য বিদূষককে মাধ্যমরূপে ব্যবহার করেন। মাতলি অদৃশ্য হয়ে প্রাসাদের উপরিতলে নিয়ে গিয়ে বিদূষককে উৎপীড়িত করে দুষ্যন্তকে ক্ষত্রিয়োচিত তেজে উদ্দীপ্ত করেন। বিদূষক ছাড়া অন্য কেউ মাধ্যম হলে হয়তো দুষ্যন্তকে স্বমহিমায় পাওয়া যেত না।

 

উপসংহার-- বিদূষক নাটকে তিনটি দৃশ্যে অবতীর্ণ হলেও নাটকীয় ঘটনার বিকাশে তার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ উভয় প্রকার ভূমিকাই আছে। কালিদাস বিদূষকের দ্বারা নাটকের মুখ্য প্রয়োজন সাধনের উপযোগী অনেক কাজ করিয়ে নিয়েছেন। অন্যান্য নাটকের বিদূষকের তুলনায় অভিজ্ঞানশকুন্তলম্‌ নাটকের বিদূষক মাধব্য একটু স্বতন্ত্র স্বভাবের। একটি type চরিত্রকে এইভাবে সর্বজনগ্রাহ্য করার মধ্যে মহাকবি কালিদাসের অনন্যসাধারণ প্রতিভার পরিচয় পাওয়া যায়।

 

No comments:

Post a Comment