संस्कृत-गल्पसाहित्ये हितोपदेशस्य स्थानं निरूप्यताम् |
গল্প সাহিত্যের উদ্ভবঃ-
পৃথিবীর সব দেশের আবাল-বৃদ্ধ-বনিতাদের কাছে গল্পের প্রতি রয়েছে অমোঘ আকর্ষণ ।মানুষের এই সহজাত প্রবৃত্তির দাবীতেই উদ্ভূত হয়েছে গল্প-সাহিত্যের ।সংস্কৃত গল্প সাহিত্যের উত্থানের পিছনে তিনটি কারণের কথা বলা হয়-১)অবসরযাপন ২)চিত্ত বিনোদন ৩) নীতিশিক্ষা দান ।সংস্কৃত গল্প সাহিত্যের ব্যাপ্তি ঘটেছিল মূলত তৃতীয় কারণে । গল্পসাহিত্যের অন্তর্গত গল্পগুলির দুটি সুনির্দিষ্ট ভাগ বর্তমান- মানুষের গল্প বা Fable ও পশুপক্ষী অবলম্বনে রচিত গল্প বা Fairy tales.
হিতোপদেশ:-
পঞ্চতন্ত্রের রচনা রীতির আদর্শে একই কাঠামোর মধ্যে ধারাবাহিক গল্পের সমাবেশে রচিত হিতোপদেশ একটি উপভোগ্য গল্প গ্রন্থ ।এই গ্রন্থের ৪৩ টি গল্পের মধ্যে ২৫ টি গল্প ‘পঞ্চতন্ত্র’ থেকে নেওয়া হয়েছে ।গ্রন্থারম্ভে গ্রন্থকার এই ঋণ স্বীকার করে নিয়ে বলেছেন-“পঞ্চতন্ত্রাত্তথান্যস্মাদ্ গ্রন্থাদাকৃষ্য লিখ্যতে” ।
রচনাকার ও রচনা প্রসঙ্গঃ-
রাজা ধবলচন্দ্রের সভাকবি নারায়ণ শর্মা হিতোপদেশ গ্রন্থটির রচয়িতা ।পাটলিপুত্রের রাজা সুদর্শনের পুত্রগণের বোধশক্তি উদ্বোধনের জন্য নারায়ণ এই গ্রন্থখানি রচনা করেন বলে উল্লিখিত হয়েছে ।
রচনাকালঃ-
হিতোপদেশের সঠিক কাল অজ্ঞাত । হিতোপদেশের একটি পুঁথির প্রতিলিপি পাওয়া গেছে যার তারিখ হল ১৩৭৩ খ্রিষ্টাব্দ । সুতরাং এর পূর্বেই গ্রন্থটি রচিত হয় ।অধ্যাপক Winternitz হিতোপদেশে ‘ভট্টারকবার’ শব্দটি দেখে মন্তব্য করেন ৫০০ খ্রিষ্টাব্দের পূর্বে এই শব্দটির উল্লেখ নেই,তবে নবম শতকের পরে শব্দটির ব্যাপক প্রচলন ঘটে ।সুতরাং নবম শতকের পর থেকে চতুর্দশ শতকের শেষার্ধের মধ্যবর্তী কোন এক সময়ে নারায়ণ শর্মা আবির্ভূত হন ও ‘হিতোপদেশ’ রচনা করেন ।
গ্রন্থবিন্যাস ও বিষয়বস্তুঃ-
এই গ্রন্থটি চারটি অধ্যায়ে বিভক্ত , যথা - ১)মিত্রলাভ,২)সুহৃদ্ভেদ,৩)বিগ্রহ ও ৪)সন্ধি – “মিত্রলাভঃ সুহৃদ্ভেদো বিগ্রহঃ সন্ধিরেব চ” । এই গ্রন্থের গঠনে ও আঙ্গিকে পঞ্চতন্ত্রের প্রভাব দেখা গেলেও গ্রন্থকারের ঘটনাবিন্যাস কৌশল স্বকীয় ।তবে ‘কামান্দকীয় নীতিসার’ থেকে অনেক শ্লোক এখানে গৃহীত হয়েছে ।
হিতোপদেশের গল্পগুলি বালক-বালিকার কল্পনারাজ্যে এক মায়ার আবেশ সৃষ্টি করে ।গোদাবরী তীরের বিশাল শাল্মলীতরু ,মন্দর পর্বতের দুর্দান্ত নামক সিংহ, কল্যাণ কটকের ভৈরব নামক ব্যাধ,চম্পকবতীর মৃগকাকশিয়াল-এমন কত ছোট ছোট গল্পের রহস্যঘন পরিবেশ,যা শোনামাত্র শিশুচিত্তে অপূর্ব পুলক জাগে ; তারা আনন্দে আত্ম হারা হয় । আদর্শ বা দৃষ্টান্ত ছাড়া উপদেশ কার্যকর হয় না ।বিশেষত অপরিণত বয়সের বালকদের ওপর আদর্শ বা দৃষ্টান্তের দাগ কাঁচা পাত্রে দাগের মতই দীর্ঘ স্থায়ী । তাই লেখক বলেছেন-
“যন্নবে ভাজনে লগ্নঃ সংস্কারো নান্যথা ভবেৎ।
কথাচ্ছলেন বালানাং নীতিস্তদিহ কথ্যতে”।।
মূল্যায়নঃ-
হিতোপদেশের গল্পগুলিতে বাস্তব জীবনের প্রতিচ্ছবি দেখতে পাওয়া যায় । গবেষকদের মতে হিতোপদেশ তার সাহিত্যগুণের কারণেই জনগণমন আকর্ষণ করতে সক্ষম হয়েছে । হিতোপদেশের সমালোচনা করতে গিয়ে Prof H. Morley লিখেছেন-“ আমরা সভ্যতার পক্ষে হয়তো অনেক দূর এগিয়ে গেছি ,তবু হিতোপদেশের এই কাহিনী গুলির প্রত্যেকটি ই যেন আজও মানবসমাজের সম্পর্কে পূর্ণ ভাবেই প্রযোজ্য.......যেসব জ্ঞান গর্ভ উক্তি দু-তিন হাজার বছর আগের প্রাণীরা উচ্চারণ করেছিল আজও তারা জীবন রসে পূর্ণ।আজ ও তাদের আমরা বিনা দ্বিধায় গীর্জায় গৃহে বা কর্মময় জীবনে উচ্চারণ করে উৎসাহ সঞ্চার করতে পারি” ।(মুরারিমোহন সেন কৃত বঙ্গানুবাদ)।
No comments:
Post a Comment