SANS-H-CC-T-03
संस्कृत-गल्पसाहित्ये पञ्चतन्त्रस्य स्थानं निरूप्यताम् |
গল্প সাহিত্যের উদ্ভবঃ-
পৃথিবীর সব দেশের আবাল-বৃদ্ধ-বনিতাদের কাছে গল্পের প্রতি রয়েছে অমোঘ আকর্ষণ ।মানুষের এই সহজাত প্রবৃত্তির দাবীতেই উদ্ভূত হয়েছে গল্প-সাহিত্যের ।সংস্কৃত গল্প সাহিত্যের উত্থানের পিছনে তিনটি কারণের কথা বলা হয়-১)অবসরযাপন ২)চিত্ত বিনোদন ৩) নীতিশিক্ষা দান ।সংস্কৃত গল্প সাহিত্যের ব্যাপ্তি ঘটেছিল মূলত তৃতীয় কারণে । গল্পসাহিত্যের অন্তর্গত গল্পগুলির দুটি সুনির্দিষ্ট ভাগ বর্তমান- মানুষের গল্প বা Fable ও পশুপক্ষী অবলম্বনে রচিত গল্প বা Fairy tales.
পঞ্চতন্ত্রঃ-
সংস্কৃত গল্প সাহিত্যের ঐতিহ্যে ‘পঞ্চতন্ত্র’ হল প্রাচীনতম গ্রন্থ ।জার্মান অনুবাদক Wolff – এর মতে প্রচারমূলক ব্যাপ্তিতে বাইবেলের পরই পঞ্চতন্ত্রের স্থান । পঞ্চতন্ত্রের মূল গল্প এখন লুপ্ত । তবে এর একাধিক সংস্করণ পাওয়া যায় ।প্রায় পঞ্চাশটিরও বেশী ভাষায় এই গ্রন্থটি অনূদিত ও প্রকাশিত হয়েছে ।
রচনাকার ও গ্রন্থরচনাকালঃ-
পঞ্চতন্ত্রের রচয়িতা হিসেবে পণ্ডিত বিষ্ণুশর্মার নাম পাওয়া যায় । পঞ্চতন্ত্রের কথারম্ভে মহিলারোপ্য নগরের উল্লেখ আছে ,তাই অনেকে বিষ্ণুশর্মাকে দক্ষিণ ভারতের লোক বলে মনে করেন ।হার্টেল সাহেব মনে করেন বিষ্ণুশর্মা কাশ্মীরীয় ।এই গ্রন্থে অর্থশাস্ত্রের প্রভাব বর্তমান । পঞ্চতন্ত্রে দীনার মুদ্রার উল্লেখ রয়েছে ।সুতরাং অনুমিত হয় দ্বিতীয় থেকে তৃতীয় খ্রিষ্টাব্দের মাঝামাঝি সময়ে এই গ্রন্থটি রচিত হয়।
রচনা প্রসঙ্গঃ-
“ছাত্রসংসাদি লব্ধকীর্তিঃ” পণ্ডিত বিষ্ণুশর্মা দাক্ষিণাত্যের মহিলারোপ্য নগরের রাজা অমরশক্তির তিন বিবেকহীন পুত্রকে বিভিন্ন বিষয়ে পারদর্শী করে তোলার জন্য ‘পঞ্চতন্ত্র’ গল্পগ্রন্থ রচনা করেন ।পঞ্চতন্ত্রকার বলেছেন তাঁর এই রচনা শিশুপাঠ্য নীতিসার গ্রন্থ – “এতৎ পঞ্চতন্ত্রকং নাম নীতিসারং বালাবোধনার্থং ভূতলে প্রবৃত্তম্” ।
নামকরণঃ –
পঞ্চানাং তন্ত্রানাং সমাহারঃ ইতি পঞ্চতন্ত্রম্ -পাঁচটি তন্ত্র বা অধ্যায় থাকায় এই গ্রন্থের নাম হয়েছে ‘পঞ্চতন্ত্র’ । ডঃ সুকুমার সেনের মতে পঞ্চতন্ত্রের আসল নাম ছিল ‘পঞ্চতন্ত্রাখ্যায়িকা’ ।
অধ্যায় বিন্যাসঃ-
মূল পঞ্চতন্ত্র পাঁচটি তন্ত্রে বিভক্ত- মিত্রভেদ, মিত্রপ্রাপ্তি,কাকোলূকীয়, লব্ধপ্রণাশ, ও অপরীক্ষিতকারক ।গ্রন্থারম্ভে লেখক তাই বলেছেন –
“সকলার্থ শাস্ত্রসারং জগতি সমালোক্য বিষ্ণুশর্মেদম্ ।
তন্ত্রৈঃ পঞ্চভিরেতচ্চকার সুমনোহরং শাস্ত্রম্”।।।
বিষয় বিন্যাসঃ-
তন্ত্রানুসারে পঞ্চতন্ত্রের বিষয় সমূহ নীচে আলোচিত হল-
১)মিত্রভেদঃ- এটি পঞ্চতন্ত্রের প্রথম তন্ত্র ।এই তন্ত্রে মোট ২৩ টি গল্প রয়েছে ।দমনক ও করটক নামে দুই শৃগাল , পিঙ্গলক নামে সিংহ এবং সঞ্জীবক নামে বৃষভ এই তন্ত্রের প্রধান চরিত্র ।গল্পগুলির মধ্যে দিয়ে সাম,দান,দণ্ড,ভেদ প্রভৃতি রাজনীতি বিষয়ক জ্ঞানদান করা হয়েছে।
২)মিত্রপ্রাপ্তিঃ- ছয়টি গল্পের সমাহারে মিত্রপ্রাপ্তি রচিত ।লঘুপতনক নামে এক কাকের কথা দিয়ে মূল গল্প শুরু হয়েছে ।
৩) কাকোলূকীয়ঃ- ১৪ টি গল্পে সমৃদ্ধ কাকোলূকীয় তন্ত্রটি ।এই তন্ত্রে সন্ধি প্রভৃতি ছয়গুণের আলোচনা আছে ।নিজেকে কিভাবে সঠিক পথে চালিত করা যাবে সেই উপদেশ এই তন্ত্রে বর্ণিত হয়েছে ।
৪) লব্ধপ্রণাশঃ- ১৭ টি গল্পের সমন্বয়ে গঠিত চতুর্থ তন্ত্রে নীতিবিদ্যা ও অর্থশাস্ত্র বিষয়ক উপদেশ দেওয়া হয়েছে । কিভাবে বিশ্বাসঘাতক মকর তার পরম মিত্র বানরকে হারিয়েছিল এই তন্ত্রে তা বর্ণিত হয়েছে ।উদ্দেশ্য সিদ্ধির উপায় হিসাবে ভেদনীতি শঠতা প্রভৃতি স্থান পেলেও অধর্মের চরম ফল বিনাশ । তাই লেখক বলেছেন-
“নরাধিপা নীচমতানুবর্তিনো বুধোপদিষ্টেন পথা ন যান্তি যে ।
বিশন্তি তে দুর্গম-মার্গ নির্গমং সমস্তসম্বাধ মনর্থ পঞ্জরম্” ।।
৫) অপরীক্ষিতকারকঃ- এই বিভাগে ১৪ টি গল্প রয়েছে । এটি পঞ্চতন্ত্রের শেষ তন্ত্র । বাস্তব জীবন সম্বন্ধে বিভিন্ন জ্ঞান এই তন্ত্রে আলোচিত হয়েছে।
মূল্যায়নঃ-
মূল গল্পের মধ্যে প্রাসঙ্গিকভাবে অনেকগুলি ছোট ছোট গল্পের সন্নিবেশ এই গ্রন্থের মূল বৈশিষ্ট্য । কল্পনার মৌলিকতা,বর্ণনাসরসতা এবং চরিত্রগুলির সজীবতা হেতু পঞ্চতন্ত্র রমণীয় ।শুধুমাত্র ন্যায়-নীতি প্রভৃতি ধর্মের আদর্শ প্রচার ছাড়াও এখানে পশুপক্ষীর রূপকে মানুষের মহত্ব ,ভণ্ডামি, শঠতা ,হৃদয়হীনতাদি গুণাগুণও পরোক্ষ ভাবে ব্যক্ত করে এক অনন্য নজির সৃষ্টি করেছেন গল্পকার ।পাশাপাশি সমস্ত পাঠকবর্গের প্রতি “কথাচ্ছলেন বালানাং নীতিস্তদিহ কথ্যতে”-লেখকের এই উদ্দেশ্যও সফল হয়েছে।
--------
No comments:
Post a Comment