SANS-H-CC-T-03
संस्कृत-गल्पसाहित्ये शुकसप्ततिकथाया: स्थानं निरूप्यताम् |
শুকসপ্ততিকথা
গ্রন্থকার ও রচনাকাল:-
সংস্কৃত গল্পসাহিত্যের এক সমৃদ্ধ সংকলন হল ‘শুকসপ্ততিকথা’ ।এই গ্রন্থখানির দুটি সংস্করণ রয়েছে-একটি হল চিন্তামণি ভট্টকৃত বৃহদাকার সংস্করণ(১২শ শতকের পরবর্তী রচনা)এবং অন্যটি হল পূর্ণভদ্রের জৈন সংস্করণ । চিন্তামণি ভট্টকৃত শুকসপ্ততি সম্ভবতঃ কোনও একটি প্রাচীন সংস্করণের ওপর ভিত্তি করে রচিত হয়েছিল,কিন্তু মূল রচনাটি লুপ্ত ।
নামকরণঃ-
“শুক-উক্তা সপ্ততিঃ” অর্থাৎ শুক পাখির দ্বারা বলা ৭০ টি গল্পের সমষ্টি ।শুক পাখির দ্বারা বলা গল্পের সংখ্যা অনুযায়ী এই গ্রন্থের নাম ‘শুকসপ্ততিকথা’ ।
বিষয়বস্তুঃ-
কিংবদন্তী অনুসারে শুকের রূপধারী মহাত্মা নারদ দেবরাজ ইন্দ্রের নিকট এই গল্পগুলি বলেছিলেন ।কাহিনী অনুসারে বণিক মদনবিনোদ ও তাঁর পত্নী প্রভাবতীকে কেন্দ্র করে গল্পগুলি রচিত ।কুপথগামী কুলাঙ্গার মদনবিনোদের কথা চিন্তা করে তাঁর পিতা শেঠ হরিদত্তের ভীষণ দুশ্চিন্তা । জনৈক ব্রাহ্মণ হরিদত্তকে তাঁর গৃহপালিত শুক -সারী উপহার দিলেন ।নীতিশাস্ত্রে পণ্ডিত শুকের মুখে এক কাহিনী শুনে মদনবিনোদ বিলাস-ব্যসন পরিত্যাগ করে দেশান্তরে বাণিজ্য যাত্রা করলেন ।স্বামীর অনুপস্থিতির সুযোগে শেঠ পত্নী প্রভাবতী অবৈধ প্রেম চরিতার্থ করার অভিপ্রায়ে প্রতি সন্ধ্যায় তার নাগরের সাথে মিলনের জন্য গোপনে ঘরের বাইরে পা বাড়াতেই খাঁচার সারী তাকে ভর্ৎসনা করত এবং শুক প্রতি সন্ধ্যায় এক একটি মজার কাহিনী শুনিয়ে ঘুম পাড়াত । এইভাবে ৭০ দিনে ৭০ টি গল্প শেষ হলে মদনবিনোদ ঘরে ফিরলেন, তাঁর স্ত্রীর চরিত্রও রক্ষা পেল ।
বৈশিষ্ট্যঃ-
শুকসপ্ততিকথার রচনারীতি সহজ,স্বচ্ছ,সাবলীল এবং বাহুল্য বর্জিত ।মূল রচনাগুলি প্রথমে গদ্যে রচিত হলেও পরবর্তী কালে সেগুলিতে নীতি উপদেশমূলক শ্লোক যুক্ত হয় ।এই গ্রন্থের অধিকাংশ গল্পই বিবাহিতা নারীর অবৈধ প্রণয়কে কেন্দ্র করে রচিত ।
মূল্যায়নঃ-
শুকসপ্ততিকথাকার বিভিন্ন গল্পের মাধ্যমে সমাজের নানা ত্রুটি- বিচ্যুতি তুলে ধরে সমাজ সংস্কারকের ভূমিকা পালন করেছেন ।এই গ্রন্থটি রচিত হওয়ার একশো বছর পরেও তুর্কি ও ফার্সী ভাষায় গ্রন্থটি অনূদিত হয় । ফার্সী ভাষায় অনূদিত গ্রন্থটির নাম হয় ‘তুতিনামা’। অতএব শুকসপ্ততিকথা সংস্কৃত গল্পসাহিত্যের উল্লেখযোগ্য সম্পদ হিসেবেই পরিগণিত হয় ।
----------
No comments:
Post a Comment