SANS-H-CC-T-03
Clarify the remark - 'दण्डिनः पदलालित्यम्'
Or
आचार्यदण्डिन: रचनाशैली-बिषये आलोच्यताम् |
Ans:-
ভুমিকাঃ-
কাব্যলক্ষণাক্রান্ত সংস্কৃত গদ্য কাব্যের ইতিহাসে আচার্য দণ্ডীর স্থান অতি উচ্চে । মহাকবি কালিদাসের ‘উপমা’ অলঙ্কারের প্রয়োগে ,ভারবির ‘অর্থ গৌরবে’এবং দণ্ডীর ‘পদলালিত্যে’ বিশেষ প্রসিদ্ধি রয়েছে । এইজন্য কোন সমালোচক বলেছেন --
“উপমা কালিদাসস্য ভারবেরর্থগৌরবম্ ।
দণ্ডিনঃ পদলালিত্যং মাঘে সন্তি ত্রয়ো গুণাঃ” ।।
দণ্ডীর শব্দ চয়নের নৈপুণ্য -ই ‘দণ্ডিনঃ পদলালিত্যম্ - এই প্রসিদ্ধির যথার্থ কারণ ।
পদলালিত্যঃ-
মূলতঃ কাব্যে ব্যবহৃত পদাবলীর গীতিধর্মীতা - ই পদলালিত্যর সৃষ্টি করে । বর্ণ ও অলঙ্কার রচনায় একত্রিত হয়ে যে বর্ণ ঝঙ্কারের এবং ধ্বনিমাধুর্যের সৃষ্টি করে তাকেই পদলালিত্য বলে । আলঙ্কারিক কুন্তকের মতে –
“অপর্যালচিতে২প্যর্থে বন্ধসৌন্দর্যসম্পদা ।
গীতবত্ হৃদয়াহ্লাদং তদ্বিদাং বিদধাতি যত্” ।।
পদলালিত্যের উদাহরণঃ-
দণ্ডীর গদ্যকাব্যে শব্দ ও অর্থের এক অপূর্ব মণিকাঞ্চন যোগ পরিদৃষ্ট হয় । কোমল পদরাজির বহুল প্রয়োগ ও অনুপ্রাসের মধুর ধ্বনিঝঙ্কারের পদরণনের অজস্র উদাহরণ তাঁর “দশকুমারচরিতম্” গদ্যকাব্যের পরতে পরতে বিরাজমান । যেমন –
১. “শ্রত্বা তু ভুবনবৃত্তান্তমুত্তমাঙ্গনা বিস্ময় বিকশিতাক্ষী সস্মিতমিদমভাষত......”
২. “অথ বিদিতবার্তাবার্তৌ মহাদেবীমালবেন্দ্রৌ...”
৩. “পতিতঃ চ কোপিতেন কো২পি তেন ময়ি শাপঃ” -- ইত্যাদি ।
শেষের উদাহরণটি তে সুন্দর যমকের মাধুর্য লক্ষণীয় – “...কোপিতেন কো২পি তেন ...”। অন্যস্থানেও এরুপ সুন্দর যমক ঘটিত ধ্বনিঝঙ্কার আমাদের মুগ্ধ করে । যেমন- “কুমারা মারাভিরামা রামাদ্যপৌরুষা রুষা ভস্মীকৃতারয়ো রয়োপহসিত ...”।
নারীর সৌন্দর্য বর্ণনায় দণ্ডী সিদ্ধহস্ত । নিখুঁত কবিত্বময় বর্ণনার বিবরণ আমরা অপহারবর্মা কর্তৃক নিদ্রিতা অম্বালিকার রুপবর্ণনায় পেয়ে থাকি ।প্রকৃতির চিত্রাঙ্কনেও কবির কী অপূর্ব দক্ষতা ! “অশ্যুষ্যচ্চ জ্যোতিষ্মতঃ প্রভাময়ং সরঃ । প্রাসরচ্চ তিমিরময়ঃ কর্দমঃ” (তৃতীয় উচ্ছ্বাস ) - এই সংক্ষিপ্ত বর্ণনাতেই রাত্রির আবির্ভাবের চিত্র যেন প্রত্যক্ষ ধরা দেয় ।
‘দশকুমারচরিতে’র ‘মন্ত্রগুপ্তচরিত’ নামক সপ্তম উচ্ছ্বাসের সমগ্র অংশ ওষ্ঠ্যবর্ণ রহিত । শব্দভাণ্ডারে ধনী না হলে এমন রচনা কেই বা করতে পারে ? ওষ্ঠ্যবর্ণ প্রয়োগ না করার কারণ হিসাবে দণ্ডী বলেছেন – “ললিতবল্লভারভসদত্তদন্তক্ষতব্যসনাবিহ্বলাধরমণির্নিরোষ্ঠ্যবর্ণমাত্মচরিতমাচচক্ষে-----”(ষষ্ঠ উচ্ছ্বাস) ।
‘কাব্যাদর্শে’ বলা হয়েছে – “ওজঃ সমাসভূয়ঃ তমেতদ্ গদ্যস্য জীবিতম্ ”। ওজঃ বলতে সমাসের বাহুল্যকে বোঝায় । গদ্যে সমাস থাকবেই । স্বল্প সমাসে ছোট বাক্য বা দীর্ঘ সমাসে বৃহৎ বাক্য গদ্যে দৃষ্ট হলেও দণ্ডী সাধারণত মধ্যম পন্থা অবলম্বন করেছেন । তাঁর রচনা অযথা পাণ্ডিত্যের ভারে ক্লিষ্ট নয়।
মূল্যায়নঃ-
দণ্ডী সংস্কৃত গদ্যসাহিত্যের এক সার্থক স্রষ্টা ।পূর্বসূরী সুবন্ধু ও বাণভট্টের ন্যায় তাঁর রচনা ‘প্রত্যক্ষরশ্লেষময় ’ নয়, তাঁর রচনা অমৃত তুল্য – ‘আচার্যদণ্ডিনো বাচাম্ আচান্তামৃতসংপদাম্’ -(‘মথুরা বিজয়’ - গঙ্গা দেবী )।তাঁর সরল ,ললিত এবং সাবলীল বর্ণনার দ্বারা সমাজের সর্ব স্তরের মানুষের চরিত্র জীবন্ত প্রতিভাত হয় । তাঁর এইরুপ সরল এবং সাবলীল বর্ণনার জন্যই উৎপত্তি হয়েছে – ‘দণ্ডিনঃ পদলালিত্যম্’–এই প্রবাদ বাক্যের । বস্তুতঃ ‘দশকুমারচরিতম্ ’ গ্রন্থই সাহিত্যিক হিসাবে দণ্ডী কে চিনিয়ে দেওয়ার পক্ষে যথেষ্ট । এই গ্রন্থই কবিখ্যাতি বহুগুণে বাড়িয়ে দিয়েছিল । ‘কবির্দন্ডী কবির্দন্ডী কবির্দন্ডী ন সংশয়ঃ’-ইত্যাদি উক্তি- ই তার প্রমাণ । কুশলী কথাশিল্পী দণ্ডী সম্পর্কে অধ্যাপক কীথ সাহেবের যথার্থ মূল্যায়ন - “Dandin is unquestionably masterly in his use of language .He is perfectly capable of simple easy narrative , and in the speeches which he gives to his characters he avoids carefully the error of elaboration of language” .
-------
No comments:
Post a Comment